আমাদের ভারত, ১১ মার্চ: আরব দুনিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলো নতুন করে। বুধবার গুজরাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া থাইল্যান্ডের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে। আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে যায়।
দ্রুত উদ্ধার অভিযানে ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। তবে ঠিক কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল তা জানা যায়নি।
বুধবারের এই ঘটনার কথা জানিয়েছে ব্যাংকক পোস্ট। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়ূরী নারী নামের ওই থাইল্যান্ডের পতাকা বাহী জাহাজটি গুজরাটের দিকে যাচ্ছিল। হামলার সময় জাহাজটি ওমানের উত্তর উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।
হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে রয়াল থাই নেভি এবং ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে এই পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টটাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করে নিশ্চিত করা হয় যে জাহাজটি ময়ূরী নারী ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আইএমও নাম্বার, কাঠামো এবং আগের সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে এই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
থাই নৌবাহিনীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর জাহাজ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। জাহাজের চারপাশের লাইফ সেভার বোট ভাসমান। এর থেকে স্পষ্ট, হামলার পর উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে রয়্যাল নেভি অফ ওমান।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী হামলার সময় জাহাজটি ওমানের উত্তর উপকূলের কাছে ছিল। তবে হামলার সময় ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর। আরব দুনিয়ার তেল সমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। এই অঞ্চলে কোনো ঘটনা ঘটলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্প এবং বিভিন্ন দেশের নৌ বাহিনীতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তা পর্যবেক্ষণ করে। ফলে এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

