জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ এপ্রিল: প্রচার শেষে আবারও বিজেপির এক মুসলিম নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল পান্ডবেশ্বর বিধানসভার বাকোলা এলাকায়। অভিযোগের আঙ্গুল উঠছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের দিকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
ঘটনায় জানা গেছে, আক্রান্ত বিজেপি নেতার নাম মহঃ মনসুর। পান্ডবেশ্বরের বাঁকোলা ৪ নং কলোয়ারী এলাকার বাসিন্দা। ওই বিধানসভার ২ নং মন্ডলের ৮৩ নং বুথের বিজেপির বুথ সভাপতি। বুধবার বিকালে বাঁকোলা ও ছোড়া এলাকায় বিজেপির প্রচার কর্মসূচি ছিল। তার আগে এলাকায় দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন বেঁধেছিলেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি নেতা জিতেন চ্যাটার্জি জানান, “প্রচার কর্মসূচির পর তাকে তৃণমূল আশ্রিত সমাজবিরোধীরা লাঠি, রড নিয়ে তাড়া করে। একা পেয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে। প্রাণভয়ে পালানোর সময় ফোনে বিষয়টি জানাতেই সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”
ঘটনার খবর পেয়ে পৌঁছয় পান্ডবেশ্বর থানার পুলিশ। পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারীও যান। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না রক্ত দেখতে পায়, তৃণমূল প্রার্থীর ঘুম হয় না। প্রায়দিনই আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করছে তৃণমূল। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।”
উল্লেখ্য, দুদিন আগে কৈলাশপুর গ্রামে সংখ্যালঘু মোর্চার এক নেতার বাড়ি ভাঙ্গচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তারপর আবারও এক মুসলিম বিজেপি নেতাকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল। জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “খনি অঞ্চলের মানুষ শান্তি চায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভবে বিজেপিতে এগিয়ে আসছে। এটা তৃণমূল সহ্য করতে পারছে না। আগামী ২৬ এপ্রিল ভোটে খনি অঞ্চলের মানুষ তৃণমূলকে জবাব দিয়ে দেবে।”
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুজিত মুখার্জি বলেন, ” সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। তৃণমূলকর্মীরা সব প্রচারে ব্যাস্ত। বিজেপি মানুষের সহানুভুতি পাওয়ার জন্য নাটক করছে।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

