পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ জুন: রাতভর তুমুল বৃষ্টিতে জল বাড়লো আত্রেয়ীর। তলিয়ে গেল বাঁশের সাঁকো। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। সমস্যা সমাধানে স্থায়ী সেতুর দাবি করলেন বাসিন্দারা।
নৌকাতে করে জীবন হাতে নিয়েই চলাচল শুরু হল চকভৃগু ও বোয়ালদাঁড় গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকেদের। মঙ্গলবার ভোরে বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকায় আত্রেয়ী নদীর উপর অবস্থিত বাশের সাঁকোটি তলিয়ে যেতেই সকাল থেকে চরম সমস্যায় পড়েন ওপারের বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। যদিও পরবর্তীতে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় নৌকাপথে যাতায়াত শুরু হলেও, স্থায়ী সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
বালুরঘাট শহর লাগোয়া রঘুনাথপুরে আত্রেয়ী নদীর উপর বহু পুরোনো একটি ফেরিঘাট রয়েছে। যার উপর নির্ভরশীল রয়েছেন ওপারের কালিকাপুর, ডাকরা, বোয়ালদাঁড়, ফুলঘরা ও পার্বতীপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। যাদের জীবিকা মূলত কৃষিকাজ। আর তার জন্য শহরের সাথে তাদের যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা হল এই নদীপথ। খরার মরশুমে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল হলেও বর্ষাতে একরকম জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌকাতে করে নদী পারাপার হতে হয় ওপারের বাসিন্দাদের। আর তার জেরেই এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, আত্রেয়ীর উপর একটি স্থায়ী সেতুর। সোমবার রাত থেকে তুমুল বৃষ্টির জেরে আত্রেয়ীর জলস্তর বাড়তেই উপড়ে পড়ে এই এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সেই বাঁশের সাঁকোটি। সকাল থেকে যার জেরে চরম সমস্যায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় নৌকা নামিয়ে স্বাভাবিক রাখা হয় পারাপার। আর যার পরেই ফের আরও একবার আত্রেয়ীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জোড়ালো হয় ওই এলাকায়।

এলাকার বাসিন্দা স্বামীনাথ চৌধুরী ও রণজিৎ সাহারা বলেন, ভোর রাতে আত্রেয়ী নদীর জলস্রোতে তলিয়ে গেছে বাঁশের সাঁকোটি। প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার ঘুরপথে রাস্তার জন্য এই নদীপথ এলাকার ৫-৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের প্রধান রাস্তা হয়েছে। রাত বিরেতে অসুবিধা হলেও শহরের সাথে যোগাযোগ এই নদী পথেই তারা করে থাকেন। এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবি মেনে একটি স্থায়ী সেতু করা হোক তারা সেটাই চান।
ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তরফে তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, জলের তোড়ে বাঁশের সাঁকো তলিয়ে গেছে। একটি নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে খরার মরশুমে বাশের সাঁকো ও বর্ষায় নৌকাতে করে পার হন এই এলাকার মানুষ। ফেরিঘাটের ব্যবসা তাদের থাকলেও এলাকার মানুষের সুবিধার্থে তারাও চান একটি স্থায়ী সেতু তৈরি করা হোক।


