চালু না হতেই ধসে পড়ছে আত্রেয়ীর রিভার ড্যাম, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ আতঙ্কিত বাসিন্দাদের, সরব এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৪ মে: চালু না হতেই বালুরঘাটে ভেঙ্গে তছনছ আত্রেয়ীর রিভার ড্যাম। আতঙ্কে এলাকার বাসিন্দারা। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনা চাক্ষুষ করে গণ অভিযোগের মাধ্যমে আন্দোলনে নামবার হুঁশিয়ারি এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলরের। বালুরঘাট শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকরা এলাকার এমন ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও আতঙ্কের তেমন কিছু নয় বলে দাবি করেছেন কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থা।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে বয়ে আসা আত্রেয়ী নদীতে জলের সমস্যার কারণে চরম দুর্দশায় পড়েন এপারের কৃষকরা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আত্রেয়ীতে জলস্ফীতি থাকলেও খরার সময়েই মূলত সমস্যায় পড়েন ভারতীয় কৃষকরা। যার কারণ হিসাবে উঠে আসে বাংলাদেশের রাবার ড্যাম নির্মাণ। দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা উপলব্ধি করে বর্ষার অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে বালুরঘাটে আত্রেয়ীর উপর ড্যাম নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। শহরের চকভবানী এলাকা থেকে ডাকরা পর্যন্ত আত্রেয়ীর বুক চিরে দীর্ঘ বেশকিছুদিন ধরে শুরু হয়েছে সেই ড্যাম নির্মাণ। দিনরাত এক করে তড়িৎ গতিতে চলছে যার কাজ। যেখানেই উঠে এসেছে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ। ড্যামের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ না হলেও একপাশ খুলে দিয়ে চলছে আত্রেয়ীর জল বের করে দেওয়ার কাজ। যে জলের গতিতেই ইতিমধ্যে ড্যামের বেশকিছু অংশ ভেঙ্গে ধসে গিয়েছে। ফাটল ধরে রয়েছে আরো বেশকিছু অংশে। যা নিয়েই রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ডাকরা এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের কাজের জন্য ভেঙ্গে বসে গিয়েছে ড্যাম। বড় বড় ফাটলের জেরে পাড় ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে এলাকায়। যা একপ্রকার প্রকাশ্যে আসতেই বাঁধের বড় বড় পাথর তুলে নিয়ে গিয়ে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থা বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। আর যার জেরে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে এলাকার বেশকিছু পরিবার। বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে আতঙ্কের কথা শুনে গণ অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নামবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর অনুশ্রী মহন্ত। সোমবার ঘটনা জানিয়ে সেচ দপ্তরকে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন এলাকার কাউন্সিলর।

এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা হালদার, নারায়ণী হালদার ও রথীন হালদাররা বলেন, ড্যামের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের চলছে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গা ইতিমধ্যে ফেটে ধসে গিয়েছে। ধামাচাপা দিতে বাঁধের সমস্ত পুরনো পাথর তুলে নিয়ে গিয়েছে কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থা। আর যার জেরে তাদের এলাকার বেশকিছু বাড়ি ঘর নদীগর্ভে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর অনুশ্রী মহন্ত বলেন, গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। বিষয়টি পুরসভার চেয়ারম্যানকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। সোমবার ঘটনা জানিয়ে একটি গণ অভিযোগপত্র সেচ দপ্তরে দেবেন তারা।

কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার তরফে সঞ্জয় পারেখ বলেন, যত ভেঙ্গে যাবে ততই ভালো হবে। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের তেমন কিছু নেই।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি হাতে পাননি। অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *