সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩১ অক্টোবর: জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে এসে দুয়ারে সরকার প্রকল্পকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের সরকারপাড়া জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়ে ১ নভেম্বর থেকে ফের শুরু হতে চলা দুয়ারে সরকার প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করেন তিনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেউলিয়া, ইতিমধ্যে সবাই জানেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুয়ারে সরকারের নামে সরাসরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে তখন মনে হয়েছিল রাজ্য সরকার এই সমস্ত কর্মসূচিগুলো করছে। পরে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ভোটও দিয়েছে। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের বাজনা যখন বাজতে চলছে আবার একটি ধাপ্পাবাজি পশ্চিমবঙ্গে হতে চলেছে। চোরেদের রানি মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে আবার কাল থেকে প্রচার শুরু হবে। এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে, যে যে স্কিমগুলি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটা দুটো বাদ দিয়ে সবকটি স্কিম সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের নাম বদল করে দেখানো হবে। যাতে আবার তোলামূলের চোররা আবার পঞ্চায়েতে জেতার লাইসেন্স রিনিউ করতে পারে। বিভিন্ন কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন স্ক্রিমে কত টাকা দেয় সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট সমস্ত তথ্য তুলে ধরেন।” সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়া লোকসভার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ পুরুলিয়া জেলার অন্যান্য বিজেপি নেতাকর্মী সমর্থকরা।
সাংবাদিক বৈঠক শেষে এদিন জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে রওনা দেন দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে।
“আমডাঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম অভিযোগ তুলেছেন এক আইসির মদতে ড্রাগের ব্যবসা চলছে”, এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলাদের বর্ডার এলাকা তাই সেটিং হচ্ছে না। আইসি ২৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ কালীঘাটে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তাই সেটিং হচ্ছে না।”
“ঘাটালে দেবকে পাওয়া যায় না” হিরণের এই মন্তব্যের বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঘাটালে হিরন গিয়েছিল তাই সেখানকার মানুষ তাকে এই কথা বলেছেন যে যেভাবে খড়্গপুরে হিরনকে পাওয়া যায় সেভাবে দেবকে ওখানে পাওয়া যায় না।” “গুজরাটে সেতু দুর্ঘটনার বিষয়ে রাজনীতি করা একেবারেই ঠিক নয়” মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর।
এখানে সরকার একেবারে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। এখানে জনস্বার্থে পরিকাঠামো তৈরি করা তো দূরের কথা রক্ষণাবেখন ঠিকমতো করেন না। কারণ তারা মনে করেন সরাসরি অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা দিলে ভোট পাব ক্ষমতায় থাকবো। এই নীতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলছে এটা খুবই বিপদজনক। প্রত্যেকটি কাজে কাটমানির খেলা। ১০০ তে ১৫ শতাংশ, ১০০ তে ২০ শতাংশ এবার দিয়ে টেন্ডার হয়। কাটমানি টু কালেক্ট মানি এটা হচ্ছে এজেন্ডা দুয়ারে সরকারের।
জায়গায় জায়গায় নিখোঁজ পোষ্টারের ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জন প্রতিনিধিদের যা যা দায়িত্ব আছে তা যদি পালন করেন তাহলে এ ধনের পোস্টার পড়ার সুযোগ হবে না। আমাদের সকলের উচিত ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করা। তিনি দেশের নেতা নন তিনি ওয়ার্ল্ড লিডার।

ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে এক নিখোঁজ থাকার পর প্রসূতির রহস্য মৃত্যুর প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যে নারী সুরক্ষা অনেক আগেই চলে গেছে।” উদাহরণ হিসেবে বগটুইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যে মহিলারা মমতা ব্যানার্জিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে, তাদেরকে জ্যান্ত জালানো হয়েছিল। পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিল। হাঁসখালি থেকে ময়নাগুড়ি কত মহিলার উদাহরণ দেব। নারী মুখ্যমন্ত্রীর আমলে গত ১২ থেকে ১৪ মাসে সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত মহিলারাই হয়েছেন। এটা সবাই প্রমাণ পেয়েছেন। সব ক্ষেত্রে শাসকের যোগ আছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পরিবারই আস্থাশীল নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোক আমেরিকায় যান কোটি কোটি টাকা খরচা করে চিকিৎসা করাতে। যেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোক পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখতে পারেন না, সেখানে বিরোধীরা তো দূরের কথা সাধারণ মানুষও আস্থা রাখতে পারবেন না। রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, রাজ্যে ডেঙ্গুর জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো এখনও গড়ে তোলেনি তৃণমূল সরকার।
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে পুরুলিয়া এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি অন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কথা বলিনি, আমরা সব বিবেকানন্দের শিষ্য। বিবেকানন্দের বাণী আমরা মেনে চলি নরেন্দ্র মোদীর সব শিষ্যরা। আমি মমিনপুরে হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে সেই কথা বলেছি, অন্য কোনো সম্প্রদায়ের কথা বলিনি।”
শুভেন্দু আজ মমতার ভারতীয়ত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, গতকাল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের সামনে যেভাবে আমাদের আভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন, তা নজির বিহীন। রীতি বিরোধী। তিনি আদালতকে প্রভাবিত করতেই ওখানে গিয়েছিলেন।
এদিন কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের মন্ত্রী গিরিজা সিং’কে পাঠানো চিঠির প্রতিলিপি তুলে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সেখানে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এম জি এন আর ই জি এ প্রকল্পের ১০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ করেন। এছাড়া এর উপযুক্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি দ্বারা তদন্তের আবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী।

