বছর শেষে গরমে অসুস্থ হয়ে প্রাণ গেল ২ জনের, আসানসোল-দুর্গাপুরে তীব্র দাবদাহে নাজেহাল শিল্পশহরবাসী

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ এপ্রিল: বছর শেষে গরমে হাঁসফাস শিল্পাঞ্চলের জনজীবন। কয়েকদিন আগেই আবহাওয়া দফতর গরমের সতর্ক বার্তা দিয়েছিল। তীব্র গরমে এবার নাকাল শিল্পাঞ্চলবাসী। গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক শিক্ষক সহ দু’জনের। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। 

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর বিধাননগরের বাসিন্দা শুভাশিষ গাঙ্গুলি (৫১) নামে এক শিক্ষক
প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। তিনি কাঁকসা সিলামপুর স্কুলের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। এদিন সকাল থেকে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করে। রাত ন’টার সময় বিধাননগরের হাডকো মোড়ের নিকাশিনালায় তার মৃতদেহ উদ্ধর হয়। তাঁর শরীরে মাথায় ক্ষত ছিল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এলাকাবাসীরা খবর দেয় দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানায়। খবর পেয়ে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক অনুমান গরমের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে গেছেন। সেকারণেই মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে চৈত্র শেষে গাজন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অন্ডালের কাজোড়া রুইদাস পাড়ায় গাজন চলাকালীন অসুস্থ হয়ে মত্যু হয় এক শিবভক্তের। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে মৃতের নাম কালিদাস রুইদাস (৫৬), কাজোড়া রুইদাস পাড়ার বাসিন্দা। গ্রামের শিবমন্দিরে গাজনে ভক্ত ছিলেন। এদিন রাত দুটো নাগাদ হোমযজ্ঞ চলছিল, ওইসময় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাসিন্দাদের প্রাথমিক অনুমান গরমে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বছর শেষে তীব্র দাবদাহে কাহিল গোটা রাজ্য। বেলা গড়াতেই বইছে তাপপ্রবাহ। আর তাতেই নাজেহাল আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলবাসী। গরমে হাঁসফাস জনজীবন শিল্পাঞ্চলজুড়ে। তবে গরমের হাত থেকে স্বস্তি পাওয়া বৃষ্টির কোনো খবর আপাতত শোনাতে পারেনি আবহাওয়া দফতর। গরমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই শিল্পাঞ্চলজুড়ে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, বইছে গরম হাওয়া। গত দুদিন ধরে সকাল থেকে দুর্গাপুর, অন্ডাল, পানাগড়, বুদবুদ এলাকায় তাপমাত্রার পারদ বাড়তে শুরু করেছে। বেলা গড়াতেই গরম হাওয়ার দাপটে রাস্তাঘাট ধীরে ধীরে জনমানসহীন হতে শুরু করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সুত্রে জানাগেছে, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় ছিল ৪২ ডিগ্রি, মালদা জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি। শ্রীনিকেতন ছিল ৪১ ডিগ্রি। দিনের বেলায় বাজারঘাট ছিল কার্যত জনমানবহীন। 

অন্যদিকে যদিও জেলাজুড়ে গরমের জেরে অসুস্থতার কোনো খবর নেই বলে জানিয়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সেখ মহম্মদ ইউনুস। সাধারণ মানুষকে গরমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ও অসুস্থতার কোনো খবর নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রচন্ড রোদে জরুরি কোনো কাজ ছাড়া বাইরে না বেরেনোই ভাল। একান্তই বাইরে যেতে হলে মাথায় টুপি, ছাতা ব্যাবহার ছাড়াও মুখে ঢাকা নেওয়া দরকার। গরমে বেশী করে পরিশ্রুত জল খাওয়া জরুরি। ঠান্ডা রসালো ফল যেমন তরমুজ, শশা খাওয়া দরকার। প্রয়োজনে নুন, লেবুর জল। ওআরএস খেতে হবে।”  

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *