রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি: এখন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ দু’দিনের সফরে আসা মাত্রই কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া সুষ্ঠুভাবে হিংসামুক্ত বিধানসভা নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি জানিয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বেশ কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে। এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রথম এত বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই ধাপে ধাপে বাহিনীর জওয়ানরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঢুকতে শুরু করবে। নিয়মমতো প্রথমদিকে রাজ্যে ইতিমধ্যেই মোতায়েন থাকা বাহিনীর সঙ্গে মিলেমিশে তারা কাজ করবেন। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে ঘুরে তারা বিভিন্ন পথঘাট চিনে নেবেন। ভোট ঘোষণার আগেও বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় টহলদারি চালাবেন বাহিনীর জওয়ানরা। তারপর তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত গত পঞ্চায়েত নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবারে নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই দুদিনের রাজ্য সফরে এসে নিউ টাউনের হোটেলে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রোখা নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর পর প্রথম দফায় সীমান্তবর্তী এলাকায় টহলদারি দিয়ে কাজ শুরু হবে। সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় সবচেয়ে বেশি কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। ওই এলাকার স্পর্শকাতর জায়গায় মানুষের মনে বিশ্বাস জোগাতে রুট মার্চ শুরু করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা গিয়েছে, শনিবারই রাজ্যে ঢুকছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা আপাতত দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, বীরভূমে টহলদারির কাজ করবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ৫ কোম্পানি বাহিনী ঢুকবে বীরভূমে। রাজ্যের ভোট কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা করণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।

