সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৫ মার্চ: মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর মুখেই ফের হাতির তান্ডব শুরু হওয়ায় উত্তর বাঁকুড়া বন বিভাগের বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই সব এলাকার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও চিন্তায়।
গতকাল রাতে বড়জোড়ার মুক্তাতোড় গ্রামের জনমজুর পরিবারের বাবলু লোহারের মাটির বাড়িটি ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে একদল হাতি। সংসার চালানোর জন্য বাড়িতে সামান্য কিছু চাল আটা ও ধান ছিল। সেগুলিও সাবাড় করে দিয়েছে জংলি হাতির এই দলটি।
এদিকে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই এলাকার জঙ্গলের ভেতরে থাকা গ্রামের ছেলে মেয়েরা সাইকেল অথবা পায়ে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে যায়। তার আগে হাতির উপদ্রব শুরু হতেই পরীক্ষা ভীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই বুনো হাতির তান্ডব। এই অবস্থায় অভিভাবকরা সমূহ বিপদের সম্মুখীন। তারা বন দফতর পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পৌছে দিতে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে ও হাতি তাড়ানোর উদ্যোগ কি নিচ্ছে সে দিকে তাকিয়ে।
এ বিষয়ে বাঁকুড়া জেলায় হাতি উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে সংগ্রামী গণমঞ্চ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, গত ২ দশক ধরে একই সমস্যা চলছে। কোটি টাকার ফসল নষ্ট করছে দাঁতাল বাহিনী। গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পথে বসাচ্ছে। হাতি তাড়ানোর জন্য কত সরকারি উদ্যোগে মিটিং মিছিল, সভা সেমিনার হচ্ছে। হাতির উপর নজরদারি করতে তৈরি করা হয়েছে হুলা পার্টি। বন মন্ত্রকের কর্তারা এসে সাধারণ মানুষের জন্য কত রকমের সুরক্ষা বলয় দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গরিব মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। কৃষক চাষ ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু হাতি সমস্যার সমাধান করতে যে সব পন্থা রয়েছে তা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সকলকে নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছে দেওয়া এবং পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা বন দফতরকে নিতে হবে।
অন্যদিকে বাবলু লোহারের বাড়ি তৈরি করে দেবার ব্যবস্থাও করতে হবে বলে জানান সংগঠনের সভাপতি পূর্ণেন্দু সরকার। এ বিষয়ে বড়জোড়ার রেঞ্জ অফিসার ঋত্বিক দে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্যান্য বছরের মতই এবারও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হচ্ছে।

