সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৬ অক্টোবর: বাতাসে ভাসছে পুজোর গন্ধ। চারিদিকে আগমনী সুর বলছে মা দুর্গা আসছেন। কিন্তু এখানে মায়ের আবাহন হয় না, বলতে পারেন বিসর্জন হয়। উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁর শারণ্য আবাসনে উঠোনে বসে কথাগুলো বলছিলেন আশি বছরের এক বৃদ্ধা। যদিও পুজো এলেই বনগাঁ পৌরসভার পক্ষ থেকে একরকম আগলে রাখা হয় বলে জানান আবাসিকরা। যদিও এবছর পুজোর শুরুতেই গোপালনগর প্রাক্তন সৈনিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আবাসিকদের নিয়ে ভুরিভোজের আয়োজন করেছে। দুর্গা পুজোয় এই প্রথমার প্রক্তন সৈনিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রান্না করে আবাসিকদের ভুরিভোজ করান। এদিন খাওয়ার পাতে ছিল ভেজডাল, পনির, চাটনি, মিষ্টি দই।

সৈনিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও কর্তব্যে অবিচল দেখা গেল। সৈনিক সংগঠনের সদস্য প্রশান্ত মজুমদার বলেন, প্রতি বছর পুজো এলেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা। অতীত নানা স্মৃতি ভিড় করে মনের কোণে। যা কারও মনকে ভারি করে তোলে। আবার কেউ বা সুখস্মৃতিতে ডুব দিয়ে কাটিয়ে দেন পুজোর কয়েকটা দিন। তাঁদের কাছে গল্পে জানতে পারলাম এক বৃদ্ধার বাবার বাড়িতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হতো। তখন কত ব্যস্ততা। বাড়িঘর ঝাড়পোছ, অতিথিদের আসা-যাওয়া, পুজোর সাজগোজ, বান্ধবীদের সঙ্গে প্যান্ডেলে ঘোরা কত মজা। স্মৃতির ছবিগুলো পর পর বলতে বলতে ভারি হয়ে আসে এক বৃদ্ধার গলা। তাই পুজোর প্রথমেই তাঁদের সঙ্গে সকল প্রাক্তন সৈনিকরা মিলে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পুজোর ষষ্ঠী দিন পুজো মণ্ডব দেখাতে নিয়ে যাবে বলে জানান প্রশান্তবাবু। এদিন এই সব আবাসিক বৃদ্ধ বৃদ্ধারা অতীতের কথা ভুলে গিয়ে আনান্দে মেতে ওঠেন। এক আবাসিক বলেন, প্রতি বছর মা দুর্গা আসেন, আবার চলেও যান। পুজোর কয়েকটা দিন সুখ-দুঃখ মিলিয়ে কেটে গেলেও ছেলে-মেয়ে, বৌমা, নাতি-নাতনিদের মঙ্গলের জন্য মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে ভোলেন না। আর যারা আমাদের সারা বছর পাশে থাকেন তাঁদের জন্য মঙ্গল কামনা সব সময় থাকে।

