আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: গতকাল রাতে রিষড়া স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রাণভয়ে এলাকার মানুষ এবং ট্রেন যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একদল মানুষ রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। তারা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। একটি পুলিশের গাড়িত এবং বেশ কিছু গুমটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বহু পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত হাওড়া সহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েন কয়েক হাজার ট্রেনযাত্রী। আজ সকালেও থমথমে পরিবেশ। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ইট পাথর, কাচের টুকরো এবং পোড়া জিনিসপত্র। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল তাঁর উত্তরবঙ্গ সফর কাটছাঁট করে কলকাতায় ফিরে আসছেন।
গত রবিবার রামনবমীর মিছিলে হামলার ঘটনা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রিষড়া। গতকালও সারাদিন উত্তপ্ত ছিল এলাকার পরিবেশ। মাঝে মাঝেই বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ চলে। পাশাপাশি ছিল পুলিশের টহলদারি। কিন্তু রাত ন’টার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারী রিষড়া স্টেশন সংলগ্ন ৪ নম্বর রেলগেটে অবরোধ শুরু করে। যাত্রী বোঝাই ট্রেন আটকে দেয়। এরপর রেল লাইনের পাথর ছুড়ে মারে ট্রেনে। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। রাত ১২টার পরেও এই তান্ডব চলতে থাকে। চার নম্বর রেলগেটের কাছে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানেও আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, একই সঙ্গে চলতে থাকে বোতল এবং পাথর-বৃষ্টি। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে পাথর এবং কাঁচের টুকরো।
অবস্থা সামাল দিতে গিয়ে পুলিশও আক্রান্ত হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করেও তারা পাথর ছুড়তে থাকে। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটালেও বিক্ষোভকারীদের সরাতে পারেনি পুলিশ। উল্টে বহু পুলিশ কর্মী আহত হন। তাঁদের হাতে, পায়ে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে।

এই অবস্থায় রাত ৯টার পর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রেন চলাচল। বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে বহু ট্রেন। এরফলে হাওড়া সহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েন যাত্রীরা। প্রায় ৩ঘণ্টা ধরে অসহায় অবস্থার মধ্যে কাটাতে হয় তাঁদের।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে গিয়ে কার্যত অসহায় অবস্থায় মধ্যে পড়ে পুলিশ। রাত ১২ টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আনা হয়। এরপর বিশাল গাড়ি ছাড়া হেঁটেই এলাকায় যায়। তারপর রাত ১ টা নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপরে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া ট্রেনগুলি ছাড়তে শুরু করে।
আজও এলাকার পরিস্থিতি রয়েছে থমথমে। চারিদিকে পাথর এবং কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে। পোড়া গুমটি দোকানের ছাই ছড়িয়ে রয়েছে। এলাকায় চলছে পুলিশের টহলদারি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ সফর কাটছাঁট করে কলকাতায় ফিরে আসছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

