আমাদের ভারত, কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি: মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
এদিন দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা দিবস উদযাপনে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। সেখানেও স্মরণ করবেন দিনটি। তিন দিন ধরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন করবে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি। মঙ্গলবার আকাদেমি সভাঘরে বিকেলে ‘বিদ্যাসাগর স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যয়। বিষয়— ভাষা ও রাষ্ট্র। থাকবে বিভিন্ন ভাষার গান।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সুভাষ মুখোপাধ্যায় স্মরণ অনুষ্ঠান করবে। এর আলোচক থাকবেন কবি সুবোধ সরকার। থাকবে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাপাঠ।
বৃহস্পতিবার জীবনানন্দ দাশ স্মরণে আলোচক থাকবেন গৌতম মিত্র। থাকবে জীবনানন্দের কবিতাপাঠ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগিতায় এই আয়োজনে প্রতিদিনের সভামুখ্য উচ্চশিক্ষা ও বিদ্যালয় বিভাগের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (কলকাতা) প্রাক্তনী সংগঠন এদিন সকালে দিনটির স্মরণে এবং ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পদযাত্রা করে। সকাল আটটার পর এটি শুরু হয় সেন্ট জেভিয়ার্সের বেকবাগানের ছাত্রাবাসের সামনে থেকে। শেষ হয় কলেজ চত্বরে। সেখানে ‘সংযোগ ২০২৩’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ ডোমিনিক স্যাভিও এবং কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস।।

বিকেলে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (কলকাতা) প্রাক্তনী সংগঠনের তরফে আয়োজিত হচ্ছে ‘দশভূজা বাঙালি ২০২৩’। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপরিচিত ১০ জনকে সম্মাননা জানানো হবে। এ এম আলমগীর, মুধবা মুখোপাধ্যায়, অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, রূপম ইসলাম, স্মরণজিৎ চক্রবর্তী, বিদেশ বসু, গৌতম হালদার, খরাজ মুখোপাধ্যায়, সৌমেন মিত্র ও ঋদ্ধিমান সাহা।
বাংলাদেশের ‘শহিদ দিবস’ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা দু’দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
‘ভাষা উৎসব’-এর প্রথম দিনে সোমবার সন্ধ্যায় উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত নাটক ‘লাল জমিন’ মঞ্চায়িত হয়। ‘লাল জমিন’ মূলতঃ মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্যপ্রকাশ। বাংলাদেশের স্বনামধন্য অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী ৭১ মিনিটের নাটকে একক অভিনয় করেন।
উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস এ খবর জানিয়ে লিখেছেন, “বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভাষা অন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। ‘৫২-এর সেই সংগ্রামের চূড়ান্ত অর্জন হয়। ’৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙ্গালির স্বাধীনতা লাভের প্রেক্ষিতে আমাদের এই নিবেদনের প্রতিপাদ্য ‘৫২-এর প্রেরণায় ৭১-এর স্বাধীনতা।“
মঙ্গলবার সকালে বার হয় প্রভাতফেরি। অংশগ্রহণকারীরা ৩, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রর সামনে উপস্থিত হন। প্রভাতফেরি শুরু হয় সকাল ৭:৩০টাতে। পার্ক সার্কাস সাত মাথার সংযোগস্থল হয়ে সেটি ফ্লাইওভারের নীচের রাস্তা ধরে সকাল ৮:১৫টাতে ফিরে আসে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে। এর পর মিশন প্রাঙ্গনে অবস্থিত শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আপ্যায়ন হয়। বিকাল ৫:০০টা – রাত ৮:০০টা- আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে। এর পর নৈশ ভোজ।
কলকাতার সর্বভারতীয় বাংলা ভাষামঞ্চ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং নিউ ইয়র্কের ‘একুশে চেতনা পরিষদ’ -এর আয়োজনে বুধবার দুপুর ১টা-৩টে যাদবপুরে বুদ্ধদেব বসু সভাঘরে হবে আলোচনা। বিষয়— ‘ভাষা আগ্রাসন ও ভারতীয় উপ-মহাদেশে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ’। স্বাগত ভাষণ দেবেন অধ্যাপক জয়দীপ ঘোষ, সূচক-ভাষণ অধ্যাপক পল্লব সেনগুপ্ত। সঞ্চালক অধ্যাপক ছন্দম চক্রবর্তী। আলোচনায় থাকবেন ওবায়েদুল্লাহ মামুন, নীতীশ বিশ্বাস ও অধ্যাপক বরেন্দু মণ্ডল।
বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম স্মৃতিসংস্থার প্রতিষ্ঠাদিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ‘বাংলা প্রবন্ধ ও হস্তাক্ষর প্রতিযোগিতা’-র শংসাপত্র ও পুরস্কার বিতরণ হবে মঙ্গলবার বিকালে দক্ষিণ কলকাতায়, শহীদ সূর্য সেন ভবনে। প্রতিযোগিতায় বিভাগ ‘ক’- অষ্টমশ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের বিষয় ছিল ‘বাংলা আমার মায়ের ভাষা”। বিভাগ ‘খ’- নবম ও দশম পড়ুয়াদের বিষয় ছিল “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি লাভে বাংলা ভাষা”। মঙ্গলবার আলোচনায় থাকবেন শিক্ষাব্রতী ডঃ পরিমল ভট্টাচার্য এবং স্মৃতিসংস্থার সভানেত্রী লীলা পুরকায়স্থ।
সারা ভারত মহিলা গণতান্ত্রিক সমিতি এদিন বিকেলে কলেজ স্ট্রিটে উদযাপন করছে কথা-গানে-কবিতায় ২১ ফেব্রুয়ারি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়িয়া শ্রীরামপুর কল্যাণ সমিতির আয়োজন করছে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের আলোচনা। অংশ নেবেন অধ্যাপক অমিত দে ও সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্ত।

