জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩ এপ্রিল: ‘দূষণমুক্ত কৃষি অঞ্চল। কৃষি উন্নতিতে পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা।’ এই বার্তা নিয়ে দুর্গাপুর পুর্ব বিধানসভার কাঁকসার আমলাজোড়া এলাকায় প্রচার করলেন বিজেপির দুই কেন্দ্রের প্রার্থী লক্ষন ঘড়ুই ও দীপ্তাংশু চৌধুরী। দলের সংকল্প পত্র নিয়ে ঘুরলেন গ্রামের হাটে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে করলেন জনসম্পর্ক।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই পর্যায় ভোটগ্রহনও হয়েছে। উন্নয়নের বার্তা নিয়ে জমে উঠেছে রাজনৈতিক প্রচার। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ শুরু পরস্পর বিরোধী তরজা শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর পুর্ব কেন্দ্রে এবারে মুলত ত্রিমুখী লড়াই। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন প্রদীপ মজুমদার। তিনি রাজ্য সরকারের কৃষি উপদেষ্টা ছিলেন। সংযুক্তা মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন আভাস রায় চৌধুরী। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী।
আবার দুর্গাপুর পুর্ব কেন্দ্রে কাঁকসার আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের বাবনাবেড়া গ্রামে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের বাড়ি। আর তাই শনিবার বাবনাবেড়া গ্রামে হাটের দিন জনসম্পর্কের সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি। এদিন সাতসকালে বিজেপির দুই কেন্দ্রের দুই প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী ও লক্ষ্মণ ঘড়ুই প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েন। সঙ্গে শ’দুয়েক দলীয় কর্মী। দুই প্রার্থীকে একসঙ্গে পেয়ে দলীয়কর্মীদের মধ্যে ছিল প্রবল উচ্ছ্বাস।
দলের সংকল্প পত্র নিয়ে ঘুরলেন গ্রামের হাটে। বাড়ি বাড়ি করলেন জনসম্পর্ক।

কাঁকসার আমলাজোড়া অঞ্চল মুলত কৃষি অঞ্চল। রবি ও বরো ধানের চাষ হয়। গ্রাম লাগোয়া গড়ে উঠেছে কারখানা। আর ওইসব কারখানার দূষিত জলে ও কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ট এলাকাবাসী। কারখানার নোংরা জল অবাধে পড়ছে এলাকার চাষ জমির একাংশে । ফলে ওইসব জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে আবার এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে দামোদর নদ। সেখানে অবৈধ বালির রমরমা কারবার। বালি বোঝাই গাড়ির যাতায়াতে ওষ্ঠাগত প্রাণ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।
এদিন প্রচারের মাঝে এক পথসভায় বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ হবে অবৈধ বালি পাচার। ওভারলোডিং বালির লরি, ট্রাক্টর, ডাম্পার যাতায়াতে নষ্ট হচ্ছে গ্রামের রাস্তা। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গ্রামের রাস্তায় এধরনের গাড়ি যাতায়াত বন্ধ করা দরকার।” তিনি আরও বলেন, “সেচের উন্নতি করা হবে। তবেই কৃষির উন্নতি হবে। সংস্কার করা হবে সেচ ক্যানেল। ব্যবস্থা করা হবে পর্যাপ্ত সেচের জল। কারখানার বর্জ্য জল চাষ জমিতে ফেলা বন্ধ করা হবে।”

একই সঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, “ধান চাষের পাশাপাশি কৃষকদের আয় বাড়াতে বিকল্প চাষের সুযোগ সুবিধা করা হবে।” গ্রামের কৃষক মন জয় করতে তিনি বলেন, “লক্ষ্য সোনার বাংলা। কাঁকসার আমলাজোড়া এলাকা দামোদর তীরবর্তী। কৃষি এবং শিল্পের সহাবস্থান। চাষীদের কিষানমান্ডিতে গিয়ে ধান বিক্রিতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসলে এলাকায় রাইসমিল তৈরির ব্যাবস্থা করা হবে। তৈরি করা হবে হিমঘর। কৃষিভিত্তিক শিল্পে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

