আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৮ জানুয়ারি: মেলায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়়ায় জখম পুলিশ অফিসার। আহত এক ভিলেজ পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে লাভপুর থানার দরবারপুর গ্রামে৷ আহত এএসআই পার্থসারথি সাহার পা, হাত ও পিঠে আঘাত লাগে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
দরবারপুর গ্রামের মিরবাঁধ কাজীপাড়ায় পীরবাবার মেলা বসেছে। ১৫ জানুয়ারি মেলার সূচনা হয়। ওই মেলায় একটি মসজিদের সামনে ডিউটি করছিলেন দাঁড়কা পুলিশ ক্যাম্পের অফিসার পার্থসারথি সাহা। স্থানীয় সূত্রে খবর, মেলায় কি গান চলবে, এই নিয়ে দু’পক্ষের বচসা শুরু হয়। বচসা থেকে উত্তেজনা ছড়ায়। সামাল দিতে যায় পুলিশ। সেই সময় পিছন থেকে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা৷
স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় এক দুষ্কৃতী ওই পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। ঘটনায় আহত হন ওই পুলিশ আধিকারিক। পর পর দুটি বোমা ফাটে৷ বোমার স্প্রিন্টার লেগে গুরুতর জখম হন কর্তব্যরত এএসআই পার্থ সাহা৷ পায়ের গোড়ালি, হাতের কনুই, পিঠে আঘাত লাগে ওই অফিসারের। তড়িঘড়ি তাকে লাভপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয়৷ বোমায় আরও এক ভিলেজ পুলিশের হাতে আঘাত লাগে। যদিও তার আঘাত গুরুতর নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
ঐ মেলায় চুরির দোকান করেছেন কিতাবুল শেখ নামে এক দোকানদার। তিনি জানান, “রাত হয়েছে তাই মেলার দোকান আস্তে আস্তে বন্ধ হচ্ছে আচমকাই বোমার আওয়াজ। বোমার আওয়াজ শুনে আমরা দোকান বন্ধ করে দিলাম। পরে শুনলাম এক পুলিশ অফিসারের উপরে বোমা পড়েছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে।” তবে জখম পুলিশ অফিসার বর্তমানে কোথায় ভর্তি রয়েছে জানা যায়নি৷ কারণ এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে জেলা পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মী যে আহত হয়েছেন তা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বক্তব্য থেকেই পরিস্কার।
লাভপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক শামিম আখতার বলেন, “দরবারপুরে ঝামেলা হয়েছিল, এক পুলিশ অফিসার এসেছিলেন।ওনার হাতে-পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল৷ আমরা চিকিৎসা করেছি। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।”
সূত্রের খবর, মেলায় মাইক বাজানো নিয়ে অশান্তি শুরু হলেও বালি ঘাট নিয়ে পুরানো আক্রোশেই পুলিশ কর্মীর উপর হামলা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে এই লাভপুরের দরবারপুরে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ হয়েছিল৷ ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছিল ৯ জনের। ২০১৯ সালে দ্বারকা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বোমা মজুত ছিল। সেই বোমা বিস্ফোরণে ভেঙ্গে পড়েছিল স্বাস্থকেন্দ্র৷ এছাড়া, লাভপুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ ওরফে রাণা সিংহ ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন৷ গ্রামে শান্তি রয়েছে, এমনই মত তাঁর। এর মাঝেই পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা৷
লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, “ঐ গ্রামের মেলায় আলকাপ গান হচ্ছিল। আমার বিধানসভা এলাকার এই গ্রামটি মুর্শিদাবাদের সীমান্তে তাই ঐ মেলায় কারা এসে অশান্তি পকালো বুঝতে পারছি না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, “আঘাত গুরুত্বর নয়৷ ভালো আছে ওই অফিসার।”
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন তার আগে বীরভূমের অন্যতম স্পর্শকাতর জায়গা দরবারপুরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা এবং সেই বোমাবাজিতে আহত হচ্ছে পুলিশ কর্মীরা। তাহলে কি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নতুন করে অশান্ত হচ্ছে জেলা? যেখানে প্রশাসন নিজেই আক্রান্ত সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

