Asha workers, Midnapur, কলকাতায় পৌঁছনোর আগেই জেলার বিভিন্ন স্টেশন থেকে আটক আশা কর্মী, পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ জানুয়ারি: কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনে আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে একাধিক আশা কর্মীকে আটক করার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো গোটা জেলাজুড়ে। মেদিনীপুর, বেলদা, খড়্গপুর-সহ জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পুলিশি হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আশা কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রাজ্যের প্রায় ৭৫ হাজার আশা কর্মী মঙ্গলবার কলকাতার স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা কর্মীরা রেলপথে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য স্টেশনগুলিতে জড়ো হন। তবে আশা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা শেষ পর্যন্ত কলকাতায় পৌঁছতে পারেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে জোর করে তাঁদের আটক করা হয়।

আশা কর্মীদের দাবি, মেদিনীপুর, বেলদা ও খড়্গপুর স্টেশনে জমায়েত হওয়া কর্মীদের পুলিশ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এমনকি বাস থেকে নামিয়ে তাঁদের একপ্রকার মারধর করেই আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মেদিনীপুর স্টেশনে আটক হওয়ার প্রতিবাদে আশা কর্মীদের একাংশ রেললাইনের উপর শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখান। যার জেরে কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক আশা কর্মী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা জেলাজুড়েই এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে এক আশা কর্মী বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর শত্রু নই, মুখ্যমন্ত্রীও আমাদের শত্রু নন। কিন্তু যেখানে মন্দির, মসজিদ, দান-খয়রাতিতে টাকা খরচ করা যায়, সেখানে কেন আমাদের বেতন বাড়াতে পারছেন না? আমরা সকাল থেকে সারাদিন পরিশ্রম করি, অথচ মাসে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়ানোর দাবিও মানা হচ্ছে না।”

তাঁদের আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আশা কর্মীদের আন্দোলনকে ভয় পেয়েছেন বলেই পুলিশ বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন আশা কর্মীদের নেতৃত্ব। তাঁদের হুঁশিয়ারি, এই আন্দোলন এখানেই থামবে না, আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও দীর্ঘ আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *