সূর্য ডুবলেই অন্ধকার হয়ে যায় ছোট্ট পূজার জগৎ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ ফেব্রুয়ারি: সূর্য ডুবলেই চারিদিক অন্ধকার পূজার জগৎ। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার অন্তর্গত চাঁদা পাঁচমাইল এলাকার বাসিন্দা ছোট্ট পূজা সরকার। সে এখন চাঁদা ললিত মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আর পাঁচজন সাধারণ শিশুর মত ওর জীবনটা সাধারণ নয়। ছোটবেলা থেকেই সে চোখে ঠিকভাবে দেখতে পায় না। তবুও পড়াশোনার ইচ্ছা তার মনের মধ্যে রয়েছে। সে চায় বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে। কিন্তু তার এই স্বপ্নপূরণের মাঝপথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার চোখ।

আর পাঁচ জন শিশু যখন স্পষ্ট ভাবে চোখে দেখতে পায় পূজার মনেও কষ্ট হয়। সেও চায় চোখে দেখতে পাক, পড়াশোনা চালিয়ে যাক, তার স্বপ্ন পূরণ করুক। ছোটবেলায় পূজার মা-বাবা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। পূজা এখন বড় হচ্ছে তার দিদা দাদুর কাছে। কিন্তু একদিকে তার বড় হওয়ার স্বপ্ন ক্রমশই ক্ষীন হয়ে আসছে। সূর্য ডুবলেই সে আর চোখে দেখতে পায় না। ছোট্ট পূজার ইচ্ছা সে যেন চোখে দেখতে পায়।

এ বিষয়ে পূজার দিদা অঞ্জনা সরকার বলেন, ছোটবেলায় ওর চোখে সমস্যা থাকার কারণে ওর মা-বাবা ওকে ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকেই ও আমাদের কাছে মানুষ। দিন যত যাচ্ছে ওর চোখের সমস্যা আরও বাড়ছে। ডাক্তারবাবুরা বলেছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করা দরকার। আর তার জন্য খরচা লাখ টাকার উপরে। অনেক ছোটাছুটি করেও কোনো লাভ হয়নি। এখন অপারেশন করাতেই হবে। তাই আমি সকলের কাছে সাহায্য চাইছি যদি আমার এই ছোট্ট পূজাকে চোখে দেখতে সবাই সাহায্য করেন।

প্রতিবেশী মহেশ্বরী বিশ্বাস বলেন, ও ছোট থেকেই চোখে দেখতে পায় না। সূর্য ডুবলেই আর কিছু দেখতে পায় না। যখন ও পড়াশোনা করে বই একদম মুখের কাছে নিয়ে পড়তে হয়। লিখতে গেলেও ওকে ওরকম ভাবে লিখতে হয়। এখন দরকার ওর চোখের অপারেশন, আর তার জন্য দরকার প্রচুর অর্থ। আমরা চাই পূজা আবার স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করুক। ওর চোখ দুটো যেন ঠিক হয়ে যায়।

পূজার বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৌমেন চ্যাটার্জি বলেন, ও পড়াশোনায় খুবই ভালো। ওর পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ আছে। কিন্তু চোখের জন্য ও ঠিক করে দেখতে পায় না। আমরাও চাই ও যেন চোখে দেখতে পাক। নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক আমরা স্কুলের তরফ থেকে যতটা সম্ভব ওকে সাহায্য করব। ওর যখন পরীক্ষা হয় তখন আমরা পূজার জন্য আলাদা করে প্রশ্ন তৈরি করি। আমরা চেষ্টা করছি স্কুল থেকে পূজাকে ওর চোখের অপারেশনের জন্য যতটুকু সাহায্য করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *