হাইকোর্টের নির্দেশিকা পৌঁছতেই, আউশগ্রামের ঘরছাড়া পরিবারদের ঘরে ফেরাল পুলিশ ও প্রশাসন

ছবি:(ওপরে) থানায় বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়াল।

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ জুন: হাইকোর্টের নির্দেশনামা পৌঁছতেই ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাল পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। তবে ঘরছাড়া পরিবারের অস্থায়ী আশ্রয় তাবুতে বিজেপিনেত্রী না যাওয়ায় আক্ষেপ থেকে গেল পরিবারগুলোর। আজ বিকাল নাগাদ পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে আউশগ্রামের ঘরছাড়া পরিবারগুলোকে প্রেমগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। 

প্রসঙ্গত, গত ২ মে রাজ্য বিধানসভার ফলাফল ঘোষনার পর অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয় আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জের বিজেপিকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। রাতের অন্ধকারে প্রাণ ভয়ে গ্রাম ছাড়তে হয়। রাজনৈতিক হিংসার আক্রামনে ভাঙ্গচুর হয়েছে ঘরবাড়ি। লুট হয়েছে বাড়ির সামগ্রী। 

সংসারে বেঁচে থাকার রশদটুকুও নেই। উধাও গবাদি পশু থেকে মাঠের সাবমার্শিবাল। পচে নষ্ট হচ্ছে মাঠে পাকা ধান। বৃহঃস্পতিবার আশ্রয়হীন পরিবারগুলো জানান, “গত কয়েকদিন রাত্রে বৃষ্টি। রান্না করা যায়নি। ত্রিপলের ওপর বসে কেউ মুড়ি, কেউ চিড়ে খেয়ে রাত কাটিয়েছে। বাচ্চাদের সেরকম কিছু খাবার জোটেনি। ৩ জন বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার ওপর সাপের উপদ্রব। বৃষ্টির জলে ভেসে আসছে বিষধর সাপ। রাতভর আতঙ্কে কেউ ঘুমোতে পারেনি।” 

নির্বাচনে ফলাফলের পর রাজ্যজুড়ে বহু বিজেপি পরিবার রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়। প্রাণভয়ে ঘরছাড়া হয় বহু পরিবার। অত্যাচারিত ঘরছাড়া পরিবারদের ফেরাতে আদালতের দারস্থ হন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়াল। কলকাতা হাইকোর্টে দলীয় কর্মীদের সুরক্ষিত ভাবে বাড়ি ফেরানোর দাবিতে মামলা দায়ের করেন তিনি। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে  সুরক্ষিত ভাবে ঘরছাড়া বিজেপি পরিবারদের বাড়ি ফেরানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশিকা নিয়ে বিজেপিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়াল আক্রন্ত হওয়া এলাকায় ও পুলিশ থানায় যাচ্ছেন। বৃহঃস্পতিবার পুর্ব বর্ধমানের গলসী ও আউশগ্রাম থানায় আসেন এবং পুলিশের কাছে হাইকোর্টের নির্দেশের কপি দিয়ে ঘরছাড়া পরিবারগুলোকে সুরক্ষিতভাবে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অর্জি জানান তিনি।

নির্দেশিকার কপি পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও প্রশাসন। এদিন বিকালেই আউশগ্রাম ও বুদবুদ থানার পুলিশ ও আউশগ্রাম ব্লক প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে প্রেমগঞ্জে বাড়ি পৌঁছে দেয় ঘরছাড়া পরিবারদের। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশী সময় পর বাড়ি পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওইসব পরিবারের সদ্যরা। 

ছবি: তাবুতে এইভাবে ছিল পরিবারগুলি।

আশ্রয়হীন পরিবারের পক্ষে সুভাষ বাগদী, কালিদাসী বাগদী প্রমুখ জানান, “বিজেপি করতাম। ভোটে বিজেপির জন্য লড়াই করেছি। তাই ঘরছাড়া হতে হয়েছে। আজ অসহায় অবস্থায় তাবু থেকে বাড়ি পৌঁছালাম। কিন্তু বাড়িতে কিছুই নেই। ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। লুট করে নিয়েছে সব কিছু। কি খাবো, বর্ষায় কিভাবে থাকব?”

ঘরছাড়া পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, “শুনেছি আজ বিজেপির টিম এসেছিল। আশা দেখেছিলাম বাড়ি ফেরার। আমাদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন বিজেপি নেতৃত্ব। মনের মধ্যে সাহসও হয়েছিল। বিজেপির নেতৃত্ব আউশগ্রাম থানায় আসলেন, অথচ আমাদের অসহায়তা দেখতে আসলেন না। আমাদের আক্ষেপ থেকে গেল।”
যদিও এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়াল জানান, “ঘরছাড়া ওইসব মানুষদের বাড়ি পৌঁছানোর যা উদ্যোগ নেওয়ার নিয়েছি। আদালতের নির্দেশের কপি নিয়ে থানায় জানিয়েছি, ঘরছাড়া পরিবারগুলোকে সুরক্ষিতভাবে ঘরে পৌঁছানোর জন্য। ভাতকুন্ডায় ঘরছাড়া সকলকে বলেছি, বাড়ি ফিরে যান।” তিনি আরও বলেন, “তাদের নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন বা রাজনীতি করতে চাইছেন, রাজনীতি করার কোনও জায়গা নেই। রাজনীতি করার কোনও সুযোগ পাবে না। বিজেপি ওইসব অত্যাচারিত মানুষদের পাশে আছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *