আমাদের ভারত, ৮ ডিসেম্বর: কেন্দ্রের উমিদ পোর্টালে ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে। তারমধ্যে ২ লক্ষের বেশি সম্পত্তি অনুমোদিত। পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। জানাগেছে, বেশ কিছু আবেদন তথ্য যাচাইয়ের পর বাতিল হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ওয়াকফ সম্পত্তি কেন্দ্রের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। এর জন্য গত ৬ জুন উমিদ নামে একটি পোর্টাল খোলে সরকার। ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তকরণের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। ৬ ডিসেম্বর ছিল এর শেষ দিন। সংসদীয় মন্ত্রী, কিরণ রিজিজু জানিয়েছিলেন, এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা যাবে না। এরপর সোমবার ওয়াকফ পোর্টালে তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, ৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৪০টি ওয়াকফ সম্পত্তি পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৯০৫টি সম্পত্তিতে অনুমোদন মিলেছে। সবচেয়ে বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে উত্তর প্রদেশ থেকে। এরপরেই আছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং পশ্চিমবঙ্গ। বাংলায় ২৩ হাজার ৮৬টি সম্পত্তি কেন্দ্রের পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ওয়াকফ সংক্রান্ত ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪১টি সম্পত্তি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের সময় বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯টি আবেদন। কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি সম্পন্ন করার জন্য অনবরত বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপ চলছে। কিভাবে পোর্টালে এই সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে তা হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক দল দেশজুড়ে সাতটি অঞ্চলিক বৈঠক করে। চালু করা হয়েছিল বিশেষ হেল্প লাইন নম্বর।
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ সংশোধনী বিলের পক্ষে লোকসভায় ২৮৮টি ভোট পড়েছিল, বিপক্ষে ছিল ২৩২টি ভোট। রাজ্যসভায় বিলের পক্ষে ছিল ১২৮ জন। বিপক্ষে ছিল ৯৫। সংসদের দুই কক্ষে সংশোধিত বিল পাস হওয়ার পর ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হয়। পরে এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে যায়। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংসদে তৈরি আইনকে কখনোই অসাংবিধানিক বলা যায় না। যদিও দুটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

