আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৬ ডিসেম্বর: ঘূর্ণি ঝড় জাওয়াদের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের ফলে ফের ফুটে উঠল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সেই চেনা জল ছবি। দুপুর থেকে চলা একটানা বৃষ্টির জন্য জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পানিহাটি, সোদপুর, কামারহাটি অঞ্চল ও তৎসংলগ্ন বিটি রোড। বৃষ্টির কারণে বিটি রোড জল মগ্ন হওয়ার ফলে সমস্যায় পড়েন নিত্য যাত্রীরা। রাস্তায় বাস সহ অন্যান্য পরিবহন আজ কম ছিল। যে কটি বাস ও অটো রাস্তায় নেমেছে তাদের গতিও ছিল শ্লথ। পৌরসভাগুলি সকাল থেকেই জল নামানোর চেষ্টা করছে। তবে সব মিলিয়ে সপ্তাহের প্রথম দিন মানুষকে এই বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়।
আচমকাই এই নিম্নচাপে বৃষ্টিতে জল জমার ফলে বেশি নাজেহাল হতে হয় বরানগর থেকে পানিহাটি এলাকার বাসিন্দাদের। সর্বত্র জলমগ্ন অবস্থা হয়ে যায়। বরানগর গোপাল লাল ঠাকুর রোড, বিটি রোড, ন’পাড়া, কামারহাটি, ফিডার রোড, ১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ড পানিহাটি, ট্রাফিক মোড় সর্বত্রই একদিনের নিম্নচাপের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে যায়। নিকাশি ব্যবস্থার যে বেহাল চিত্র তা প্রতিবারই অল্প বৃষ্টিতেই ভয়ঙ্কর রূপ ধরা পড়ে। গঙ্গার তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় এবং নিচু এলাকা হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমতে দেখা যায় এখানে। আর একটানা বৃষ্টি হলে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। রবিবারের সারা রাতের বৃষ্টির ফলে এই জলমগ্ন রাস্তায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, তার মধ্যে দিয়েই গাড়িচালকদের এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণ হাতে নিয়ে নিত্যদিনের কাজে বের হতে হয়। সপ্তাহের প্রথম দিনেই জলমগ্ন এলাকায় অফিস, স্কুল সহ নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তবে এদিন পৌরসভাগুলি সকাল থেকেই পাম্প চালিয়ে জল নামানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু এই এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা কতদিনে কাটিয়ে উঠতে পারে পৌরসভাগুলি, আর সাধারণ মানুষ এই জলমগ্ন অবস্থার হাত থেকে রেহাই পায় সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে জলমগ্ন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট, ঘোলা থানা ও থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। থানার ভেতরে জমা জলে ইট পেতে চলছে প্রশাসনিক কাজ।

একটানা বৃষ্টির কারণে ঘোলা থানার ভেতরে জল জমে গেছে। থানার ভেতরে জল জমার ফলে রীতিমতো ইট পেতে এবং গামবুট পড়ে ডিউটি করছেন ঘোলা থানার পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা। চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন মহিলা পুলিশ অফিসাররা। শুধু পুলিশ কর্মীদেরই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাই না, বিভিন্ন কারণে থানায় আসা এলাকাবাসীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই বা একটানা বৃষ্টি হলেই জল জমে যায় থানার ভেতরে। বৃষ্টি হলেই দরকারি নথিপত্র উঁচুতে ওঠাতে তৎপর হতে হয় ঘোলা থানার কর্মীদের। তবে দীর্ঘ দিনের এই জমা জলের সমস্যা কবে মিটবে সেই দিকেই তাকিয়ে পুলিশ কর্মীরাও।

