গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জের, রাতের অন্ধকারে চাকদহে তৃণমূল কর্মীকে গুলি

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৯ মে: এক তৃণমূল কর্মীকে গুলি করল দুষ্কৃতিরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তৃণমূল কর্মীর নাম নারায়ণ দে (৫০)। নদিয়ার চাকদহের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গৌড় পাড়ার ঘটনা। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে চাকদাহ থানার পুলিশ।

জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মী নারায়ণ দে রবিবার রাত ৮ টা নাগাদ তার বাড়ির লাগোয়া একটি বাগানবাড়িতে বসে ছিলেন। তখনই একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে ম হামলা চালায়, তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি নারায়ণ দের গলায় লাগে। গুলির শব্দে ছুটে আসে এলাকার লোকজন। তার আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

তড়িঘড়ি ওই তৃণমূল কর্মী কে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে চাকদা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ওই তৃণমূল কর্মী।

জানাগেছে, নারায়ণ দে রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি রত্না ঘোষ করের অনুগামী। তাঁর অভিযোগ, যুব তৃণমূল নেতা শুভংকর সিংহ (যীশু সিংহ) এর অনুগামীরা তাকে গুলি করেছে।

রত্না ঘোষ করের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে পুরো বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তৃণমূল কর্মী কে গুলি করার ঘটনায় চাকদা দু নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাধন বিশ্বাস বলেন, নারায়ণ দে একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল দলটি করে আসছে। আমরা ঘটনা শুনতে পেরেই তাকে নিয়ে কল্যাণীতে চলে আসি, এখন তার শারীরিক অবস্থা একটু ভালোর দিকে।

নারায়ণ দের অভিযোগ, তাকে যুব তৃণমূল নেতা শুভংকর সিংহ (যীশু সিংহ) এর অনুগামীরা গুলি করেছে। কিন্তু তা উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সাধন বিশ্বাস। তার দাবি, এই ঘটনার সাথে বিরোধী শক্তির যোগসাজশ আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছুদিন ধরেই রানাঘাট দক্ষিণের সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি রত্না ঘোষ কর কে দলের একাংশ মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, রত্না ঘোষ কর দলের অন্দরে থেকেই বিজেপির সাথে রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি হাত মেলাচ্ছেন। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তিনি দল বিরোধী কাজ করে আসছেন। কিছুদিন ধরে এই নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। দুদিন আগে এক প্রেস কনফারেন্সে তৃণমূলের একাংশ রত্না ঘোষ করকে দলের সভাপতি হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন। সেই নিয়ে জেলা ও রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। আর সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই কি গুলিবিদ্ধ হতে হল রত্না ঘোষ করের অনুগামী কে? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *