সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ জুলাই: “শবর শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ায় ইন্ডিয়ান হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন পুলিশ কর্মী পুরুলিয়ার অরূপ মুখার্জি।
ইংরেজদের অপরাধপ্রবণ জনজাতির তকমা লাগানো শবরদের সমাজের মূলধারা থেকে বরাবর বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা, রোজগার সব অধিকারই এদের কাছে হয়ে থেকেছে অধরা। সবদিক থেকে বঞ্চিত এই শবররা আজ একটু একটু করে সমাজে জায়গা করে নেওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ। তার নাম অরূপ মুখার্জি। চাকরি করেন কলকাতা ট্রাফিক পুলিশে। পুরুলিয়ার পুঞ্চায় অবশ্য তিনি পরিচিত “শবর পিতা” নামে।

ছোটো বেলায় দাদুর কাছে শুনতেন যে এরা সব চোর। শুনে মনে মনে খুব কষ্ট পেতেন আর ভাবতেন কি করে এরা সবাই চোর হতে পারে? তখনই মনস্থির করেছিলেন বড় হয়ে এদের জন্যে কিছু করবেনই। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে চাকরি পেয়েই শুরু করে দেন শবরদের উন্নতির প্রচেষ্টা। পুরুলিয়ার পুঞ্চার পাঁড়ুই, অরূপ বাবুর নিজের গ্রামেই তিনি তার এই কাজ করে চলেছেন। মাইনের প্রায় সবটাই ব্যয় করে এই গ্রামেই “পুঞ্চা নবদিশা স্কুল” গড়ে তুলেছেন। তবে এটি শুধু একটি স্কুল নয়। বহু শবর শিশুর বাড়ি। এখানে তারা পায় শিক্ষা, আশ্রয় আর পেট ভরা খাবার।
“বাবা”র এই স্কুলে লেখাপড়া শুরু করে আজ বহু শবর সন্তান হয়েছে শিক্ষিত। পিছয়ে পড়া তকমা ছেড়ে এখন তারা এগিয়ে চলেছে উন্নত আগামীর দিকে। তা দেখে গর্বের শেষ নেই অরূপ বাবুর। এই অতুলনীয় কাজের জন্য এখনো কপালে কোনও সরকারি সাহায্য না জুটলেও তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যাথা নেই শবর পিতার। কিন্তু হ্যাঁ পেয়েছেন বহু নামী দামী সংগঠনের প্রসংশা ও সাহায্য। এতে অতি সাম্প্রতিক সংযোজন হল “ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডস”এ স্থান অধিকার করে পাওয়া “ইন্ডিয়ান হিউম্যানিটেরিয়ান এওয়ার্ড”। শবরদের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি অবশ্য হাতে পাওয়ায় সাথে সাথেই পুরস্কারটি তুলে দিয়েছেন নিজের স্কুলের বাচ্চাদের হাতে। তাঁর কথায় সম্মান কাজ করার উৎসাহ বাড়ায় কাজে সাহায্যও অবশ্যই করে এতে কোনও সন্দেহ নেই। তার মতে ২০১১সালে ১৫জন মাত্র শিশু নিয়ে শুরু হওয়া “পুঞ্চা নবদিশা স্কুল”এর পড়ুয়ার সংখ্যা আজ ১২৬, এটাই তার প্রাপ্তি।

