আমাদের ভারত, বাসন্তী, ১১ মে: গত ৩রা মে বাসন্তী থানার নেবুখালি গাজি পাড়ায় সাবির হোসেন মোল্লা নামে নয় বছরের এক নাবালকের হাত, পা বাঁধা ও গলায় ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আগের দিন থেকে নিখোঁজ ছিল সাবির। চারিদিকে খুঁজেও তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাসন্তী থানায় যখন অভিযোগ করছিলেন তখন বাড়ির পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে উদ্ধার হয় সাবিরের মৃতদেহ। হাত, পা বাঁধার পাশাপাশি তার গলায় ফাঁস ও সারা শরীরে সূঁচ ফোটানোর চিহ্ন দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল খুন করা হয়েছে সাবিরকে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত এবং কি কারণে এই নাবালককে খুন করা হল সে বিষয়টি পরিস্কার ছিল না পুলিশের কাছে। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে এক সপ্তাহের মধ্যেই রহস্যের উন্মোচন করেন বাসন্তী থানার আই সি মহম্মদ আব্দুর রব খান সহ তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সাবিরের কয়েকজন সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পাশাপাশি মৃতের বাবা সিরাজুল মোল্লা সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীকেও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ জানতে পারে, নিহতের সৎ দিদির সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল তার মেসো রফিকুল ইসলামের। দুজনের মধ্যে নিয়মিত মেলামেশা চলতো। তাঁদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেছিল সাবির। এরই মধ্যে দিদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে লোক জানাজানি হয়। ঘটনায় রফিকুলের নাম উঠে আসে। কিন্তু রফিকুল গোটা ঘটনা অস্বীকার করে। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশি সভা বসে। সেই সভায় সাবির নিজে রফিকুলের বিরুদ্ধে বয়ান দেয়।
এরপরই গ্রামের মুরুব্বিদের চাপে নিজের অন্যায় স্বীকার করতে বাধ্য হয় অভিযুক্ত। সালিশি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাবিরের দিদিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় রফিকুল। সেই থেকেই সাবিরের উপর যত রাগ গিয়ে পড়ে অভিযুক্তের। ঘটনার পর কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই তাকে খুনের পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত। এ কাজে তাকে সাহায্য করতে গ্রামের আরেক বছর পনেরোর নাবালককে সঙ্গী করে রফিকুল। এরপর ২রা মে রাতে গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে ডেকে নিয়ে গিয়ে সাবিরকে খুন করে অভিযুক্ত রফিকুল ও তার নাবালক সহযোগী। খুনের পর ঐ রাতেই দেহটি পরিত্যক্ত ঘরে ফেলে দিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল রফিকুল। তাতেই পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ হয়েছিল রফিকুলের উপর। বাসন্তী থানার পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্তকে। পুলিশি জেরায় নিজের দোষ স্বীকার করে অভিযুক্ত। ঘটনার সাথে জড়িত নাবালককেও আইন মেনে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে ও তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবার অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। পাশাপাশি এতো দ্রুত পুলিশ তদন্ত করে দোষীকে গ্রেফতার করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।

