সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ জুন: রাজনৈতিক খুন নয়, আদ্রায় রেলের বিভিন্ন কাজের বরাত পাওয়া নিয়ে আক্রোশের বলি তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় চৌবে। ওই ঘটনার বিশেষ তদন্তকারি দলের কাছে এই তত্ত্বই উঠে এসেছে এখনও পর্যন্ত। রেলে সিন্ডিকেট চক্রের একেবারে উপরের দিকের ব্যক্তি হচ্ছে খুনের মাষ্টার মাইন্ড। আদ্রায় পিন্টু ঘোষ এবং মুন্না সিং এই দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে তদন্তে, যাদের বরাত পেতে সাহায্য করতেন খুন হওয়া ধনঞ্জয় চৌবে। তিনি বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট চক্রে ছিলেন। পিন্টু ও মুন্নার হয়ে কাজ করতেন ধনঞ্জয়। তাদের উপার্জনের পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিল আরজু মালিকের। তাই দু’ মাস আগে পথের কাঁটা সরাতে স্থানীয় একজনকে সুপারি দিয়ে ধনঞ্জয়কে খুনের চেষ্টা বৃথা যায়। তখন কাকা জামালকে (আগেই ধৃত) দিয়ে পেশাদার খুনিকে কাজে লাগায় মাষ্টার মাইন্ড আরজু।

আদ্রার খুনের তদন্তে আরও দ্রুততা আনতে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বে চার সদস্যের সিট গঠন করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। দুই অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার দিন রাতেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের মধ্যে একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতী মহম্মদ জামাল। অপরজন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আরশাদ হোসেন। তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরজু মালিক নামে এক মাষ্টার মাইন্ডের খোঁজ পায় পুলিশ। আদ্রায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি ধনঞ্জয় চৌবের খুনের ঘটনার অন্যতম ওই মাষ্টার মাইন্ড গ্রেফতার হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭ এমএম ১টি পিস্তল। ধৃতের নাম আরজু মালিক। নিতুরিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ধৃতের বাড়ি বিহারের জামুই এলাকায় বলে জানায় পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি।

গত বৃহস্পতিবার ভর সন্ধ্যায় আদ্রা পুরাতন বাজার এলাকায় অস্থায়ী তৃণমূলের দলীয় অফিসের সামনে শহর সভাপতি ও তার দেহরক্ষীকে বসে থাকা অবস্থায় খুব কাছ থেকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে ধনঞ্জয় ও তার দেহরক্ষী। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ধনঞ্জয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেহরক্ষী। ঘটনার ৪ দিন পর এই খুনের কিনারা করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের সিট দায়িত্ব পায়। সিট গঠনের পর প্রথম সাফল্য পেল। ধৃত আরজু মালিককে আজ রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ হেফাজত হয় তার।
এই ঘটনার সাথে আর কে কে যুক্ত তা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বাকি দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হবে জানান জেলা পুলিশ সুপার। এই ঘটনার সাথে এখনো রাজনীতির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। রেল সিন্ডিকেটের তোলা আদায়ের বাধা দেওয়া নিয়েই এই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে। এই ঘটনার সাথে যুক্ত জামাল দুষ্কৃতীদের তথ্য দেয় বলে জানতে পারে পুলিশ। শুটারের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

