রাজ্য হিসাবের নথি জমা না দেওয়ায় বকেয়া জিএসটি বরাদ্দ করা যায়নি, শীঘ্রই জিএসটির বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

আমাদের ভারত, ১৮ ফেব্রুয়ারি: জিএসটির বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল বেশ কিছু রাজ্য। আজ তাদের সুসংবাদ দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর নির্মলা জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যগুলির জিএসটি বাবদ পাওনা অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যগুলি সরকারি খরচের হিসাবের নথি জমা না দেওয়ার ফলেই জিএসটির বকেয়া অর্থ বরাদ্দ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র।

পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু সহ একাধিক রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরে জিএসটির বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বহুবার এই অভিযোগ করেছেন যে, জিএসটির টাকা না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রকল্প থমকে যাচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে রাজ্যগুলি সরকারি খরচের হিসাব সংক্রান্ত নথি জমা না দেওয়ার কারণে জিএসটির বকেয়া অর্থ বরাদ্দ করা যাচ্ছে না।

শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ পর্যন্ত জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ বকেয়া রয়েছে তাড়াতাড়ি তা মিটিয়ে দেওয়া হবে। এই টাকার অংক ১৬,৯৮২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের নিজের তহবিল, ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে এই টাকা মেটানো হবে। এভাবেই গত পাঁচ বছরে যাবতীয় বকেয়া রাজ্যগুলিকে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নির্মলা সীতারামন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জিএসটি আইন অনুযায়ী রাজ্যগুলির প্রাপ্য শুল্কের একটা পরিমাণ সরাসরি কেন্দ্রের কাছে যায়। কিন্তু তার জন্য রাজ্যগুলির যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলে স্থির হয়। কিন্তু বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্র ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওনা অর্থ দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা করছে।

আজ জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে বেশ কিছু দ্রব্যের জিএসটির হারে বদল আনা হয়েছে। গুড় এবং গুড় জাতীয় খাবারে ১৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হতো। এবার থেকে এইসব খাবারে কোনো ধরনের জিএসটি দিতে হবে না। পেন্সিল কাটারের উপর বসানো জিএসটির পরিমাণ ১৮ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *