গোপীবল্লভপুরে বিধায়কের উদ্যোগে চন্দ্রী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থা

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ৩ জুন: চিকিৎসক বিধায়কের হাত ধরে মিটল দীর্ঘদিনের সমস্যা। ঝাড়গ্রাম জেলার চন্দ্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনও স্থায়ী চিকৎসক ছিল না। তা নিয়ে এলাকার তিনটি অঞ্চলের মানুষের ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। এবার চিকিৎসক বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতাের হাত ধরে মিটল সেই সমস্যা। সপ্তাহে ছয় দিন এবার থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাওয়া যাবে চিকিৎসককে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের চন্দ্ৰী অঞ্চলের চন্দ্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কেবলমাত্র তিনদিন চিকিৎসক আসতেন। তাও স্থানীয়দের অভিযােগ ছিল তিনি নিয়মিত আসেন না। সেই খবর পান গােপীবল্লভপুরের চিকিৎসক বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতাে। তারপরেই বিধায়ক নিজেই পৌঁছে যান চন্দ্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সকাল ১০.৩০ নাগাদ তিনি হাসপাতালে পৌছান কিন্তু তখনও চিকিৎসক আসেননি হাসপাতালে। প্রায় এগারােটা নাগাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক পৌছান। এরপর বিধায়ক ঝাড়গ্রামের মােহনপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মানিক সিংকে ডেকে পাঠান। মানিকবাবু এসে পৌছালে গ্রামের মানুষজন চিকিৎসকের দাবিতে সােচ্চার হয়ে ওঠেন। এরপর বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ বাবু মানিকবাবুকে অবিলম্বে চন্দ্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সপ্তাহে ছয় দিন যাতে চিকিৎসক আসেন তার ব্যবস্থা করতে বলেন। মানুষ যাতে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পান সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেন। এর পর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মানিক সিং গ্রামবাসীদের সামনে কথা দেন সােমবার থেকে শনিবার সকাল ন’টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত চিকিৎসক থাকবেন।

চন্দ্রী গ্রামের বাসিন্দা তমাল দাস, শুভদীপ দাস, শুভাশিস সাউ বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উপর চন্দ্ৰী গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ নির্ভরশীল। এছাড়াও আগুইবনি, নেদাবহড়া, সাপধরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাজার হাজার মানুষ নির্ভর করেন। চন্দ্ৰী থেকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় কুড়ি কিমি। আর অন্যদিকে মােহনপুর বা তপশিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি। ফলে এই চন্দ্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপর মানুষ নির্ভর করেন। কিন্তু এখানে চিকিৎসক ছিল না। কিছুদিন আগে যস ঝড়ের রিলিফ ক্যাম্পে আমাদের সুবিধা অসুবিধার কথা জানতে রাত ১০.৩০ নাগাদ এসেছিলেন সেই সময় আমরা আমাদের হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে জানিয়েছিলাম। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন ঝড়ের সমস্যা মিটে গেলে উনি আমাদের হাসপাতলে আসবেন আজ তিনি হাসপাতালে এসে আমাদের সমস্যার সমাধান করেছেন।

বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতাে বলেন, “চন্দ্ৰী অঞ্চল ছাড়া আরাও তিনটি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপর নির্ভর করেন। এখানে চিকিৎসক নিয়মিত আসেন না। গ্রামের বাসিন্দারা কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে দেখা হলে এই অভিযােগ করেছেন। মােহনপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ফোন করে ডেকে পাঠাই। যাতে ছয় দিন চিকিৎসক আসেন তার ব্যবস্থা করার জন্য বলি। তিনি জানান, এখন থেকে
সপ্তাহে ছয়দিন হাসপাতালে ডাক্তার পরিষেবা পাওয়া যাবে। বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *