পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ এপ্রিল: কুড়িটি অংকের সঠিক উত্তর দিয়ে লিটিল জিনিয়াস কম্পিটিশন ২০২১-এর সেরার সেরা নির্বাচিত হলেন বালুরঘাটের অর্পিতা ঘোষ। রবিবার একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্যালকাটা ইউনির্ভাসিটি ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়াম থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বালুরঘাটের ওই কৃতি ছাত্রীকে। একশো নম্বরের ওই পরীক্ষায় ২০ টা অঙ্ক সঠিক করে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই স্কুল ছাত্রী। রাজ্য পর্যায়ের এমন মেধা পরীক্ষায় নিজেকে চুড়ান্ত স্থানে পৌঁছাতে পেরে আবেগে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে অর্পিতা ও তার পরিবার।

জানা যায়, রাজ্য পর্যায়ে মেধাবীদের চিহ্নিত করতে প্রতিবছরের মতো বিদ্যালয় শিক্ষা উন্নয়ন মিশন পরিচালনা করে ওই প্রতিযোগীতার। যেখানে স্টেট লেভেল অলিম্পিয়াড, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ও লিটল জিনিয়াসের মতো তিনটি বিষয় সামনে রাখেন কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে এমন প্রতিযোগিতার বিষয় দেখতে পেয়েই সেখানে অংশগ্রহণ করে বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী তথা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা অসীম কুমার ঘোষের ছোট মেয়ে অর্পিতা ঘোষ। ছোট থেকেই যার নেশা এইসব প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিজেকে সেরা প্রমাণিত করা। ২০১৬ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়বার সময় এমন একটি পরীক্ষায় ৫ টি বিষয়ের উপর সেরা রেজাল্ট করে গোল্ড মেডেল ও পাঁচ হাজার টাকার চেক এনেছিলেন অর্পিতা। ২০২১- এ লকডাউনে ঘরবন্দি থেকেও অনলাইনে যোগাযোগ করে লিটল জিনিয়াস কম্পিটশনের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। যেখানে ৫ নম্বরের ২০ টি বিভিন্ন উচ্চস্তরের অঙ্ক সামনে রাখা হয়। ১০০ নম্বরের সেই পরীক্ষায় রাজ্যে অংশগ্রহণকারী অনান্য সাতটি স্কুলকে পিছনে ফেলে একশো নম্বর পেয়ে চুড়ান্ত স্থান অর্জন করেন বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই স্কুল ছাত্রী। রবিবার কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের ওই কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলকাতার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষরা ছাড়াও হাজির ছিলেন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কৃতিরা। সোমবার যেখান থেকে ফিরতেই আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন বালুরঘাটের ঘোষ পরিবার।
ছাত্রী অর্পিতা ঘোষ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক এই ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তার যেন একটা নেশা। এই প্রতিযোগিতায় কুড়িটি অংকের সঠিক উত্তর দিয়ে ১০০ নম্বর পেয়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন নিয়েই আগামীতে নিজের পড়াশোনাকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়লেই ভালো হওয়া যায় সেই যুক্তিকে কখনই তিনি মানেন না।
অর্পিতার বাবা অসীম কুমার ঘোষ বলেন, দুই মেয়েই তার গর্ব। ছোট থেকেই অর্পিতার এই নেশায় বাড়ির অর্ধেক ভরে গিয়েছে বিভিন্ন ট্রফি ও সার্টিফিকেটে। ২০২১ এর জুলাইয়ে হওয়া এই পরীক্ষায় রাজ্যের সমস্ত প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে তার মেয়ে চুড়ান্ত হয়ে সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

