মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্বাধিকারভঙ্গের মামলায় অর্নব গোস্বামীকে গ্রেফতার করা যাবে না, রায় সুপ্রিম কোর্টের

আমাদের ভারত, ৬ নভেম্বর: রিপাবলিক টিভির এডিটর ইন চিফ অর্ণব গোস্বামী আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্বাধিকার ভঙ্গের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে বিধানসভার সচিবকে শোকজের নোটিশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগ তিনি অনর্বকে সতর্ক করে বলেছিলেন বিধানসভার নোটিস যেনো সুপ্রিমকোর্টকে না দেখানো হয়।

শুক্রবার এই রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা বিধানসভার সচিবকে নোটিশ দিয়ে বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে কারণ দেখাতে হবে, কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এস বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি ভি রাম সুব্রামানিয়ামকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেওয়ার সময় বলেছেন, ” এই বিষয়টি খুব সিরিয়াস এবং আদালত অবমাননার সামিল।”

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শিবসেনার বিধায়ক প্রতাপ সরনায়েক বিধানসভায় অর্ণবের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ আনেন। তার অভিযোগ ছিল অর্নব গোস্বামী মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। তার আরো অভিযোগ ছিল অর্ণব টিভিতে বিতর্কের সময় নিয়মিত ভাবেই মন্ত্রী, বিধায়ক, সংসদের অপমানিত করেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি অনেকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।

আর এরপরই অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে কারণ দেখানোর জন্য নোটিশ পাঠায় মহারাষ্ট্র বিধানসভা। সেই নোটিশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন অর্ণব।

অন্য একটি মামলায় পুলিশ অর্নবকে নিজের হেফাজতে চাইলেও তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের পাঠানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আলিবাগ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নিজের জারি করা অর্ডারে জানান, কেন অর্নবকে নিজেদের হেফাজতে চান রায়গড় পুলিশ, তার কারণ সঠিক ভাবে দেখাতে পারেনি তারা।

এমনকি অর্নবের গ্রেপ্তারিও বেআইনি বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ ২০১৮ সালে এক আর্কিটেক্ট ও তার মায়ের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে অনর্বের জড়িত থাকার স্বপক্ষে কোন পোক্ত প্রমাণ এপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নতুন কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়া ঠিক কি কারণে দু’বছর পরে মামলায় পুলিশ ফের সক্রিয় হলো তাও স্পষ্ট নয়।

এদিকে রায়গড় পুলিশ জানিয়েছে ২০১৮ সালের দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতেই তারা অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত গোপনের জন্য তারা অর্ণবকে জেরা করা দরকার বলে মনে করেন। সেজন্য পুলিশি হেফাজত চেয়েছেন। অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতে জানান ২০১৮ সালে যে এফআইআর দায়ের হয় সেটা তথ্য প্রমাণের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আত্মঘাতীর স্ত্রী ও মেয়ে আবার একটি অভিযোগ দায়ের করলে নতুন করে এই তদন্ত শুরু হয়। তাতেই অর্ণব গোস্বামী ও দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *