আরামবাগে বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল সেনা বাহিনী

আমাদের ভারত, আরামবাগ, ২ আগস্ট: আরামবাগ মহকুমা এলাকায় বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারে নামল সেনাবাহিনী। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর ও দামোদর নদীর জল৷ জলের তলায় চলে গিয়েছে খানাকুলের ধান্যঘড়ি, পানশিউলি, ঠাকুরানিচক, সুন্দরপুর সহ একাধিক গ্রাম৷ খানাকুলে বন্যা দুর্গতেদের উদ্ধারের জন্য সোমবার নামানো হল সেনা। দুটি সেনা হেলিকপ্টারের সাহায্যে মোট ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়। অবিরাম বৃষ্টিতে রূপনারায়ণ ও দ্বারকেশ্বর নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্লাবিত হয় নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা৷ বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকে নদীর জল৷ জলের তলায় চলে যায় অধিকাংশ বাড়ি৷ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রবিবার সেনা নামানোর চেষ্টা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তা করা যায়নি৷ সোমবার ভোর থেকে দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য নামানো হয় সেনা।

জানা গিয়েছে, খানাকুলের প্রায় চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত জলের তলায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ধান্যঘড়ি ও কিশোরপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েত এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে প্রচুর বাড়ি ও ফসলের জমি জলে তলিয়ে গেছে৷ দুর্গতদের থাকার জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন স্কুলে ত্রাণ শিবির খােলা হয়েছে। আপাতত সেখানেই রাখা হচ্ছে স্থানীয় মানুষজনকে। এখনও পর্যন্ত ২৬ জন সেনাবাহিনীর দল এই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। খানাকুলের বেশিরভাগ মানুষ গৃহবন্দি। আরামবাগ মহকুমার তরফে দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবাররের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৫ কিউসেক জল ছাড়ার জন্য বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও জল ছাড়ার ফলে হুগলি ও হাওড়ার বেশ কিছু অঞ্চল জলমগ্ন৷ ধান্যঘড়ি এলাকা থেকে ১০২ বছরের জাহ্নবি সামন্ত নামে এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মানসী পালকে উদ্ধার করার সময় মাথায় চোট লাগে। আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা করানো হয়। দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকার ও খাওয়া দাওয়ার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খানাকুলের নিখোঁজ হারাধন পোড়েলের মৃতদেহ উদ্ধার হল খানাকুলের কিশোরপুরের সামন্ত পাড়া থেকে। জানা গেছে, খানাকুলের বন্দিপুর এলাকার দ্বারকেশ্বর নদীর বাঁধ ভাঙ্গার পর থেকে ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন। জানা গেছে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে নদীর বাঁধের ধারে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় জলের তোড়ে তলিয়ে যান। দুর্গতদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হুগলি জেলার জেলাশাসক দ্বিপাপ্রিয়া পি সাংবাদিকদের জানান, বন্যার জলে আটকে থাকা দুর্গতদের উদ্ধার কাজ চলছে। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার মানুষের সুবিধার্থে সমস্ত দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *