আমাদের ভারত, ১২ জানুয়ারি: এর আগেও বিজেপির বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীদের মুখে শোনা গিয়েছে দেশের ইতিহাস নতুন করে লেখার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিদেশি শক্তির প্রভাব মুক্ত ইতিহাস রচনার পক্ষে সওয়াল করেছেন। বৃহস্পতিবার একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফের ব্রিটিশদের চোখ দিয়ে নয়, ভারতের প্রেক্ষিতে ইতিহাস লেখার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মনে করিয়েছেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবই কংগ্রেসের অহিংস আন্দোলনের সাফল্যের ভিত্তি।
ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবই কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনের সাফল্যের ভিত্তি বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের হৃদয়ে দেশপ্রেমের শিখা জ্বালিয়ে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীরা, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বিপ্লবীরা সেভাবে গুরুত্ব পাননি ইতিহাসের পাতায়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি বই “রেভেলিউশনরিস- দ্যা আদার স্টোরি অফ হাউ ইন্ডিয়া ওয়ান ইটস ফ্রিডম” প্রকাশের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন বুধবার। অর্থনীতিবিদ তথা প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল এই বইটি লিখেছেন। সেখানে দেশের স্বাধীনতায় সশস্ত্র বিপ্লবীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, যদি সমান্তরাল ভাবে সশস্ত্র আন্দোলন না চলতো তাহলে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে আরো কয়েক দশক লেগে যেত ভারতের।
শাহ বলেন, এটা সত্য যে ভারত স্বাধীন করতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের নিজস্ব তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল, কিন্তু তা বলে সশস্ত্র বিপ্লব নগণ্য ছিল না। সশস্ত্র বিপ্লবকে বিক্ষিপ্ত অসংগঠিত বলে অবহিত করে অহিংস আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো ঠিক নয়। অমিত শাহের কথায় ব্রিটিশরা চলে গেলেও এখনো তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই ইতিহাস লেখা হয় দেশে। তাঁর অভিযোগ, দেশের ইতিহাস চর্চা নিয়ে বহু বিভ্রান্তি রয়েছে এখনো।
এক শ্রেণির ইতিহাসবিদকে বিঁধে অমিত শাহ বলেন, ইতিহাসবিদদের কাজ ছিল ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেশের ইতিহাস লেখা। তারা ঠিকভাবে সে কাজ করতে পারেননি। তারা জানেন না, যেদিন ভগৎ সিংকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল লাহোর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রতিটি পরিবার এতটাই শোকে স্তব্ধ হয়েছিল যে তারা খাবার খেতে পারেনি। ভগৎ সিং এর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঠিক পর পরই স্বাধীনতা আসেনি বলে এই না যে তার আত্মত্যাগ কম গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু ভগৎ সিং সম্পর্কেই নয় সশস্ত্র বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তাই দেশের জন্য নতুন করে ইতিহাস লেখার পক্ষে সওয়াল করেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে আমাদের ইতিহাসকে মুক্ত করার কথা বলেছেন। আমাদের এবার সেই কাজে উদ্যোগী হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রেক্ষিত থেকে ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেছিলেন বিনায়ক দামোদর সাভারকার। তিনি বলেন, বীর সাভারকার প্রথম ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
অমিত শাহ স্বাধীনতা সংগ্রামে অসহযোগ আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে আসলে গান্ধীজীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁর দাবি, ইতিহাস চর্চা এবং লেখার ক্ষেত্রে বহু বিভ্রান্তি থেকে যাচ্ছে।

