“দাম বেধে দেওয়ার ফলে ধাপে ধাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পাট শিল্প”, কেন্দ্রীয় জুট নীতি নিয়ে মন্তব্য অর্জুন সিং’য়ের

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৭ এপ্রিল: গত কয়েকদিন আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন পাট শিল্প নিয়ে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জুট মিনিস্টার পীযূষ গোয়েল ও টেক্সটাইল দপ্তরের সমস্ত আধিকারিকদের সাথে গত ১৩ ডিসেম্বর অর্জুন সিং বৈঠক করেন। তার পর তিনি পাট শিল্প নিয়ে একটি চিঠি দেন জুট মিনিস্টারের কাছে, কিন্তু বহু দিন অতিক্রম হয়ে গেলেও এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া তিনি পাননি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ অর্জুন সিং একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন কেন্দ্রীয় জুট মিনিস্ট্রির কমিশন ও তার আধিকারিকদের ওপর। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বস্ত্র দপ্তরের (টেক্সটাইল) সাথে হওয়া বৈঠকে যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল সেগুলি সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমন কি সেই বিষয়গুলি সর্ব সমক্ষে আনা হচ্ছে না। মিটিংয়ে পাটের দাম বেধে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। যে তথ্যের ভিত্তিতে দাম বেধে দেওয়া হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। আর এই দাম বেধে দেওয়ার জন্য ধাপে ধাপে পাট শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

অর্জুন সিং এদিন অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় জুট কমিশনার পাট শিল্প নিয়ে যে বক্তব্য প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীর সরকার উভয়কেই। বর্তমানে কেন্দ্র যে দাম বেধে দিয়েছে পাটের তাতে পাট চাষ করে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা। কারণ কুইন্টাল প্রতি ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার দাম বেধে দেওয়া হয়েছে। অথচ দিনে দিনে সার, পাম্পিং মেশিন সহ সমস্ত চাষের দ্রব্যের দাম বেড়েছে। সেখানে চাষিরা অসহায় হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। যার ফলে কিছু অসাধু ব্যবসয়ীরা এর সুযোগ নিয়ে ঘুর পথে পাটের কালো বাজারি করছে। তাতে কিছু পুলিশ ও আমলারা সহায়তা করছে। তিনি আরো বলেন, পাটের উৎপাদন কমে যাওয়ায় তার যোগান কমে গেছে ফলে ঘুর পথে পাট
কিনে সেটগুলো দিয়ে মাল তৈরী করে বাজারে বেচলে কোম্পানিগুলিকে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ সরকার পাটজাত দ্রব্য কেনার দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যার ফলে জুট কোম্পানিগুলি বছরের পর বছর ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। আর ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বেশি দিন মিল চালু রাখতে পারে না কেউ। যার ফলে এখনো পর্যন্ত ৬৫ টা জুট মিলের মধ্যে খোলা আছে ৫০ টা। ১৪ টা জুট মিল বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাকি গুলোও ধুকছে। আর পাট জাত দ্রব্যের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে আনা হচ্ছে। জুট করপোরেশনের কর্তা এই ভাবে পাট ও পাট জাত দ্রব্যের দাম বেধে দিয়ে প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে দিতে চাইছে তাতে জুট শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এদিন অর্জুন বাবু বলেন, “আমি এই বিষয়গুলি অনেক দিন আগেই পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছি। একটা দুর্নীতি হচ্ছে চট শিল্পকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। “এদিন অর্জুন সিং পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, মুখ্য মন্ত্রী, সমস্ত শ্রমিক ইউনিয়নকে একসাথে মিলে এই বিষয় গুলিতে হস্তক্ষেপ করা দরকার। সেই সঙ্গে তিনি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের দাবি করেছেন। তবে তিনি এই সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের পাট নীতি নিয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *