জুট কর্পোরেশনের বৈঠকে ডাক না পেয়ে ক্ষুব্ধ অর্জুন সিং

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৯ মে: রাজ্যে পাট শিল্প ও পাট চাষিদের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন অর্জুন সিং। এই নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করেছেন। আজ কেন্দ্রের জুট কর্পোরেশনের বৈঠকে ডাক না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন তিনি।

বেশ কিছু দিন ধরেই পাট শিল্প প্রসঙ্গে কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা করছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। বার বার কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে দরবার করেছেন তিনি। আজ কেন্দ্রের তরফ থেকে পাট শিল্পের সমস্যাগুলি নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল তবে সেখানে ডাকা হয়নি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং’কে।

দেশের পাট শিল্প ক্রমেই রুগ্ন হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক জুট মিল। যেগুলি খোলা আছে সেগুলোও ধুঁকছে। কাঁচা মালের অভাব দেখিয়ে বন্ধ হচ্ছে মিলগুলি ফলে বেকার হয়ে যাচ্ছে জুট মিলের শ্রমিকরা। মূলত পাট ও পাট জাত দ্রব্যের মূল্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বেঁধে দেওয়ার পর থেকেই ক্রমশ খারাপ হচ্ছে পাট শিল্পের অবস্থা এমন তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে এক প্রকার সংঘাতে নেমেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সাথে এই বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সেইসঙ্গে জুটের দাম প্রত্যাহার না করলে এবং জুট সংক্রান্ত বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নীতি প্রত্যাহার না করলে এ আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে দিল্লিতে আজ কেন্দ্রীয় জুট করপোরেশন, রাজ্য ও বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতনিধিদের নিয়ে যে বৈঠক হওয়ার কথা সেখানে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকে ডাকা
হয়নি। সেই প্রসঙ্গে অর্জুন সিং বলেন, তাকে ডাকা হলে বিষয়টা ভালো হতো তিনি সমস্ত বিষয়টা জানেন পাটশিল্পের কি কি সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ডাকা হয়নি তাকে। তাতেও কোনো ক্ষোভ নেই।

“আমি ইগো বাড়িতে রেখে রাজনীতি করতে যাই। এই বিষয়ে আমার কোনো ইগো নেই। আমি ইস্যুটা তুলেছি ঠিকই কিন্তু আমাকে ডাকেনি বৈঠকে সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত তবে ডাকলে ভালো হতো। আমাকে না ডাকলে আমি কি করে যাবো। আমি থাকলে কেউ কারোর ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে পারতো না। সঠিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাস্তা থাকতো। তবে এই মিটিংটা ভালো হলে সবার ভালো। “বৈঠকে ডাক না পেয়ে একটু আক্ষেপের সুরে কথা গুলো বললেন সাংসদ অর্জুন সিং। তার বক্তব্য” এই মিটিং যদি সদর্থক হয় তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমি চাই কৃষক, জুট মিল ও মিলের শ্রমিকদের ভালো হোক। জুট মিল গুলি যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেই পরিস্থিতি দূর হোক। আর যদি এই মিটিং সদর্থক না হয় তাহলে তো আন্দোলনের পথ তো খোলা আছে।সেক্ষেত্রে আমি আবার সরব হবো। আমি তো আগেই বলেছি পাটের দাম যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে এতে মিলগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। চাষিরা পাট উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছে যার জন্য পাট চাষে কালো বাজারি শুরু হয়েছে। তাই আমি পাট শিল্প উন্নত করতে, শিল্পকে বাঁচাতে কর্ম সংস্থানকে বাঁচাতে যে দাবি রেখেছি সেগুলো সরকার মানলে কোনো আন্দোলন করবো না। তবে আজকের মিটিং যা হয়েছে তাতে এখনো পর্যন্ত এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এখনো পর্যন্ত যা খবর তাতে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে তাতে মিল মালিক, শ্রমিক চাষি সকলের ভালো হবে মনে হচ্ছে। আগামী দিনে এই শিল্পের উন্নয়নে আরো কিছু বক্তব্য চিন্তা ভাবনা আছে সেই বিষয় গুলি মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জানানো হবে তিনি আমাকে ডাকলেই আমি দিল্লি যাবো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *