আমাদের ভারত, ১১ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় এখনও কোনও আত্মসমালোচনা নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। শুক্রবার এই ভাষাতেই ক্ষোভ জানাল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)।
শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর জানায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রথম বর্ষের অসহায় ছাত্রদের পেয়ে সিনিয়রদের হিংস্র ও বিকৃত দাদাগিরির তীব্র নিন্দা ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু সাথে সাথে আমাদের প্রশ্ন এই ব্যবস্থা তো একদিনে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় এতদিন কেন ব্যবস্থা নেয়নি?
তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দায় ও দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। অথচ সব দোষ ছাত্রদের উপর চাপিয়ে কর্তৃপক্ষকে আড়াল করা হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় মেইন হস্টেলের সুপার ও ডিন অব স্টুডেন্টস কি দায়িত্ব এড়াতে পারেন? এত ঘটনা ঘটেছে অথচ হস্টেল সুপার হস্তক্ষেপ
করেননি কেন? অভিযোগ এসেছে, যে রাতে ছাত্রদের ফোন ধরেননি ডিন অব স্টুডেন্টস। কেন? ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনও আত্মসমালোচনাও করেনি।
শিক্ষক সংগঠনের বিবৃতি দেখলে বোঝাই যায় র্যাগিং আটকানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি কতটা সক্রিয় ছিলো? অতীতেও এরকম র্যাগিংয়ের ঘটনায় সত্য উদঘাটন হয়নি। কারও সাজা হয়নি। সব ধামাচাপা পড়েছে।
এবার যেন সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি তদন্ত কমিটির পক্ষে কি নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব? কমিটির অধিকাংশ সদস্যই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয় ঘনিষ্ঠ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুন্ডুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য আমরা একইসাথে দায়ী করছি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা আচার্য ও রাজ্য সরকারের শিক্ষাদফতর তথা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। কারণ তাঁদের বিরোধের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও উপাচার্য নেই। বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য। বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টালমাটাল অবস্থা।
রাজ্যপালের অসহযোগীতায় উপাচার্য নেই, নেই বহু পদাধিকারি। কেউই কিছুর দায়িত্ব নিতে রাজি হয় না। তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই মৃত্যুতে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা আসে। চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা বেরিয়ে যায়। সবারই হাজারো সমস্যা থাকে। প্রশাসনের এই সময়ে সবচেয়ে সক্রিয় থাকা দরকার। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় এখন কার্যত প্রশাসকহীন।
ফলে ইউজিসির নিয়ম মেনে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা হস্টেল, নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি। এর দায় কে নেবে? এর জন্য তো রাজ্যপাল ও রাজ্যের শিক্ষা দফতরকে দায় স্বীকার করতে হবে। দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও। আমরা স্বপ্নদীপের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি চাই। ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। র্যাগিংয়ে নো টলারেন্স নীতির কঠোর প্রয়োগ চাই।
তাই আমরা সমগ্র ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। কারণ কিছুদিন আগেই আইআইটি, খড়্গপুরের ছাত্র ফায়জান আহমেদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে পুলিশ ভুল ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। রাজ্য সরকার ও আইআইটি কর্তৃপক্ষ খুনকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ। সব ধামাচাপা দিয়েছিল। পরে আদালতে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
তাই যাদবপুরের ক্ষেত্রে শুরুতেই সাবধান হওয়া দরকার। প্রয়োজনে কর্মরত বিচারপতিকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি তৈরি করে তদন্ত হোক। নাহলে সত্য উদ্ঘাটন নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকে যাবে। যাদবপুরের সমগ্র ছাত্রসমাজকে কালিমালিপ্ত করার একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এটা নিন্দনীয়।

