অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: ১৮ বছরের পুরানো মামলায় মানবাধিকার কর্মী রূপা বিশ্বাস গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। এই সঙ্গে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছেন মমতা ব্যানার্জি।’ এই অভিযোগ করে এপিডিআর এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, “এপিডিআর-এর সদস্যা রূপা বিশ্বাসকে ২০০৪ সালের একটা মামলায় ঘোলা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অর্থাৎ ১৮ বছর আগেকার কোনও মামলায়। তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করলে বিচারক সরকারি উকিলের আবেদনের ভিত্তিতে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন। অভিযোগ, ২০০৪ সালে পানিহাটিতে রূপা নাকি একটা প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। সেজন্য তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার আরও অনেকের সঙ্গে তাঁকেও রাষ্ট্রপদ্রোহ সহ আইপিসির বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত করে।
২০০৪ সালের পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য বুদ্ধবাবুর সরকারের পতন ঘটেছে। সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ঝলমলে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার। প্রতিশ্রুতি ছিল সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের। একজন রাজনৈতিক বন্দিকেও মুক্তি দেয়নি। বামফ্রন্ট সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হয়নি। পানিহাটিতে মিছিল করার জন্য সেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটিও প্রত্যাহৃত হয়নি।
রূপা বিশ্বাস সপরিবারে কলকাতায় থাকেন। হঠাৎ সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে সেই ১৮ বছর আগের সাজানো মামলায় গ্রেফতার করা হলো রূপাকে। ঘটনা দেখলে মনে হবে, পুলিশ যেন তক্কে তক্কে ছিল। বাপের বাড়িতে অসুস্থ মাকে দেখতে যেতেই তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। জামিন না দিয়ে একজন মানবাধিকার কর্মীকে ১৮ বছরের পুরানো সাজানো মামলায় জেলে পাঠালো রাজ্য সরকার।
আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজ্য সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েকজন প্রতিবাদী সমাজকর্মী ও গণ আন্দোলনের কর্মীকে সাজানো মামলায় জেলে পাঠিয়েছে। এবার পাঠালো একজন মানবাধিকার কর্মীকে। ১৮ বছর আগের মামলা খুঁচিয়ে তুলে রূপার গ্রেফতারিও কি বৃহত্তর কোনো সরকারি ষড়যন্ত্রের অংশ?
এরাজ্যের অধিকার আন্দোলন বা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনেকের বিরুদ্ধেই এধরনের মামলা আছে। ষড়যন্ত্র করে পুলিশ মামলাগুলো দিয়ে রাখে। মামলাগুলি অনন্তকাল ধরে চলতেই থাকে, চলতেই থাকে। জেলা থেকেও খবর, এরকম পুরানো মামলায় হঠাৎ করে নোটিস হাজির হচ্ছে।
অর্থাৎ রূপার গ্রেফতার বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। সরকারের বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। যাকে মোটেই হাল্কা করে দেখা উচিত নয়। একজন এপিডিআর সদস্যের উপর আক্রমণ সমগ্র এপিডিআরের উপরই আক্রমণ। নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার আন্দোলনের উপরই আক্রমন।”

