প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির মন্তব্যের বিরোধিতায় এপিডিআর

আমাদের ভারত, ২৪ জুলাই: জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চ্যার্টাজির আদালত প্রাঙ্গনে ক্ষোভ প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন এপিডিআর-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর।

প্রেস বিবৃতিতে রঞ্জিতবাবু সোমবার জানান, “আজ জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বন্দিমুক্তি নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলি তার ব্যাপারে নীরব কোন? এব্যাপারে এপিডিআর এর বক্তব্য, মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর রাজনৈতিক বন্দি ও উকিল দিতে না পারা হতদরিদ্র বন্দিদের মুক্তির জন্য কাজ করে। একই সঙ্গে বন্দি নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়।

পার্থবাবু রাজনৈতিক বন্দি নন। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেলবন্দি। তার দলও সে অভিযোগ মেনে নিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করেছে। তবে আমরা সব বন্দিরই দ্রুত বিচারের পক্ষে। আমরা চাই পার্থবাবুরও দ্রুত বিচার হোক। কাউকেই বিনা বিচারে দীর্ঘকাল জেলবন্দি করে রাখা অন্যায়।

পার্থবাবু এক দশকের উপর রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। দলের ইস্তাহারে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর আজ পর্যন্ত একজন রাজনৈতিক বন্দিকেও মুক্তি দেয়নি তৃণমূল সরকার।

গত ১০/১২/১৩ বছর ধরে বন্দি রয়েছেন অনেক রাজনৈতিক কর্মী। পার্থবাবুর কাছেও আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির জন্য, তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি। তাঁর মহাসচিব থাকাকালীন সময়েই হাজরা মোড়ে এপিডিআর কর্মীদের উপর শারিরীক হামলা হয়েছে। এক পরিচিত তৃণমূল নেতার নেতৃত্বে গুন্ডারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এপিডিআরের জমায়েতে। তার সরকারের আমলেও এপিডিআর কর্মীরা বারবার পুলিশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পার্থবাবুর ক্ষোভ প্রকাশ তাই আমাদের মনে কোনও রেখাপাত করছে না৷ পার্থবাবু যে জেলে বন্দি আছেন সেই জেলে আরও ১৫০০ বিচারধীন বন্দি আছেন, যাদের বেশিরভাগই পার্থবাবুর থেকে বেশিদিন বিনা বিচারে বন্দি আছেন। পার্থবাবু কি তাদের কথা ভেবেছেন? তাদের কথা তো বলছেন না?

বিচারালয়গুলিতে অসংখ্য বিচারক পদ শূন্য। তাঁর সরকার বিচারক নিয়োগ করেনি। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন জানতেন সবই। কেন নীরব ছিলেন? আজ কাঁদলে হবে? নিজের কৃতকর্মের ফলভোগ করছেন তিনি। কর্মফল! দুঃখিত! মানবাধিকার কর্মীদের তার জন্য কিছুই করার নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *