আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের দাবি এপিডিআর-এর

আমাদের ভারত, ২৫ জুলাই: আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। এই সঙ্গে, বিচারব্যবস্থার এই দুর্দিনেও সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে কিছু বিচারপতি যেভাবে সত্য উদ্ঘাটনে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করেছেন তা আশাপ্রদ বলে মন্তব্য করল এপিডিআর।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর এই প্রতিবেদককে সোমবার জানান, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রীসভার বর্তমান শিল্পমন্ত্রী এবং রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারি সচিবকে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ইডি গ্রেফতার করেছে। এসএসসি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে এই গ্রেপ্তারি। ইডি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, পার্থ চ্যাটার্জির বান্ধবীর ঘরে পাওয়া ২২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা এসএসসি দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা, চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা বলেই তাদের সন্দেহ।

এদিকে গত প্রায় ৫০০ দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে এসএসসি তালিকাভুক্ত চাকরি প্রার্থীরা। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তালিকায় নীচের দিকে থাকা প্রার্থীদের বা আদৌ পরীক্ষায় না বসা প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।আন্দোলনকারীদের এই দাবি আজ প্রমাণিত। যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত সবটাই সন্দেহের ঊর্দ্ধে নয়। বিশেষত কাউকে ঢুকতে না দিয়ে (নিরপেক্ষ সাক্ষী ছাড়াই) বিপুল টাকা উদ্ধার ও স্তুপীকৃত টাকার ছবি যেভাবে ইডি-র তরফেই ছড়ানো হয়েছে তাতে সন্দেহ একটা থাকছেই। কারণ এই সব কেন্দ্রীয় সংস্থাকেই রাজ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে,
এমএলএ কেনাবেচায়, বিজেপিতে যোগদানে বাধ্য করার কাজে চরম উদ্যোগী ভূমিকায় দেখা যায়।

তবুও শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি, লক্ষ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রি, লুঠের রাজত্ব, আজ যেভাবে সবার চোখের সামনে উঠে এসেছে এবং তাতে সক্রিয় নেতা- মন্ত্রী -আমলাদের ভূমিকা যেভাবে উন্মোচিত হয়েছে সেজন্য আন্দোলনরত চাকরি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে কোনো অভিনন্দনই যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির উদ্যোগ ছাড়াই প্রতারিত ও বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য আন্দোলনের ফলেই এই দুর্নীতি ফাঁস হয়েছে। আমরা তাঁদের আরও একবার অভিনন্দন জানাই।

এই পরিপ্রেক্ষিতে এপিডিআর মনে করে, তালিকাভুক্ত আন্দোলনরত চাকুরী প্রার্থীদের অবিলম্বে নিয়োগপত্র দেওয়া উচিত। আমরা দাবি করছি, একদিনও দেরি না করে তাদের প্রত্যেককে নিয়োগপত্র দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *