আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ২০ ডিসেম্বর: তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে দিয়ে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করিয়ে আটকানো হল অনুব্রত মণ্ডলের দিল্লি যাত্রা। বীরভূমের দুবরাজপুর থানায় দায়ের করা মামলা নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের। যদিও বিরোধীদের দাবি মানতে চাননি সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায়।
সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরার অনুমতি দেয়। এরপরেই তড়িঘড়ি দুবরাজপুর থানার মেজে গ্রামের বাসিন্দা শিবঠাকুর মণ্ডল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই খবর জানার পর অনুব্রত মণ্ডল দুবরাজপুর দলীয় কার্যালয়ে ডেকে তাকে হুমকি দেন। এমনকি খুনের উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরেন।
সব শেষে শিবঠাকুর লেখেন তিনি জেল বন্দি থাকায় থানায় অভিযোগ করার সাহস পেলাম। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই দুবরাজপুর থানা তড়িঘড়ি আদালতের মাধ্যমে অনুব্রত মণ্ডলকে আসানসোল জেল থেকে সাতসকালে দুবরাজপুর থানায় নিয়ে আসে। বেলা ১১ টার দিকে অনুব্রত মণ্ডলকে দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

শিবঠাকুর বলেন, “আমি অন্য দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। সেটা জানতে পেরেই আমাকে পার্টি অফিসে ডেকে গলা টিপে ধরে মারার চেষ্টা করেন অনুব্রত মণ্ডল। এতদিন ভয়ে কোন অভিযোগ করতে পারিনি। এখন তিনি জেলে। তাই সাহস করে অভিযোগ করলাম”।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের দিল্লি যাত্রা আটকাতে এটা একটা নতুন কৌশল। তবে এটা শেষ রক্ষা হবে না। অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি যেতেই হবে”।
তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। এর পিছনে অন্য কোন গন্ধ পাচ্ছি না। তবে যিনি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে”।

