অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২১ মার্চ: নরেন্দ্র মোদীকে যে বিশ্বাস করবে তার মৃত্যু অনিবার্য কারণ সে একটা বেইমান ভয়ঙ্কর মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী। নয়াগ্রাম বিধানসভার গোপীবল্লভপুর যাত্রা ময়দানের তৃণমূল প্রার্থী দুলাল মুর্মুর সমর্থনের জনসভায় থেকে এভাবেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ সালে যা বলেছেন তাই করেছেন, ১৬ সালে যা বলেছেন তাই করেছেন, আবার ২১ সালে যা বলছেন তাই করবেন আর প্রধানমন্ত্রী ভারতের জন্য আট বছরে কি করেছেন? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হলেন ভয়ঙ্কর মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী।তার যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে বাংলায় বসে ডানদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন আর বামদিকে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ভারতের জন্য কি করেছেন বলবেন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করেছেন বলবেন। ১৫ বছর রাজত্বে থেকেও পাশের রাজ্য ঝাড়খন্ডে একটাও হাসপাতাল করতে পারেনি।তাই ঝাড়খণ্ডের লোক সিউড়ি, রামপুরহাট আসানসোলে আসে চিকিৎসা করতে, তিনি আবার বলছেন, সোনার বাংলা করবেন। এই প্রধানমন্ত্রীকে যে বিশ্বাস করবে তার মৃত্যু অনিবার্য কারণ তিনি একটা বেইমান ভয়ঙ্কর মিথ্যাবাদী ভিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন দু’কোটি বেকার যুবককে চাকরি দেবেন, ১৫ লক্ষ টাকা করে সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। এক টাকাও কেউ পেয়েছেন? এক টাকাও তো পাবেন না, কারণ প্রধানমন্ত্রী যখন দিল্লি থেকে আসেন তখন পকেট ভর্তি করে মিথ্যা কথা নিয়ে আসেন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই যান সেখানে আঁচল ভর্তি উন্নয়ন নিয়ে যান। মনমোহন সিং যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন নরেন্দ্র মোদী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন তাঁর অপরাধ ছিল, যখন ৬৬ টাকা পেট্রোলের দাম ছিল তখন বিশ্বের মার্কেটে দাম ছিল ৪৯ টাকা আজকে তিনি কি করছেন বলুন, রামের দেশে তেলের দাম একশো টাকা, কিন্তু রাবণের দেশে তেলের দাম ৪৯ টাকা, আর সীতার দেশে তেলের দাম ৪৭ টাকা। তাই ৩৪ বছর সিপিএমের আমলে যেভাবে অন্ধকার নেমে এনেছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সেই ভাবে অন্ধকার নামিয়ে আনবে তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকলে আপনাদের খাবারের চিন্তা করতে হবে না। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে রেশন। আর নরেন্দ্র মোদীর চিন্তাভাবনা হল ট্রেন বেচে দেবে প্ল্যাটফর্মের টিকিট ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে প্লাটফর্মকেও বেচে দেবে। দামি দামি চারটি ব্যাঙ্ক বেচে দিয়েছে, এয়ারপোর্ট বেচে দিয়েছে। এরপর দেখবেন কবে ভারতবর্ষটাকেও বেচে দেবে। তাই আপনারা সবাই দিদির সাথে থাকুন দিদি ক্ষমতায় থাকলে বেকারদের চাকরি হবে।

প্রার্থী দুলাল মুর্মু এখানে বলেছে একটা স্টেডিয়াম দরকার আমি কথা দিচ্ছি এই বিষয়ে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও কথার খেলাপ করেন না, তাই এখানে স্টেডিয়াম হবে। আপনাদের অনুরোধ করছি বাংলায় উন্নয়ন করতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন হলে চাকরি হবে এ রাজ্যটাকে যদি সাজাতে হয় তাহলে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সাজাতে পারবেন। নরেন্দ্র মোদী এখন কৃষক ভক্তি দেখাচ্ছেন তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে ঘোষণা করছেন তাহলে কেন্দ্র সরকারের এত টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন এক টাকাও ঘোষণা করতে পারছেন না? তাই আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হৃদয় মাঝে ধরে রাখুন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের হৃদয় ভরে উন্নয়নে ভরিয়ে দেবে।

