আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৯ আগস্ট: লোকগানের কালজয়ী শিল্পী হলো অংশুমান রায়। আজ প্রয়াত শিল্পীর জন্মদিনে এই প্রথমবার ঝাড়গ্রামে কথায়, গানে ও তাঁর স্মৃতিচারণায় পালন করা হল তাঁর ৮৭ তম জন্মদিন। উদ্যোক্তা শিল্পীপুত্র ভাস্কর রায় ও অংশুমানের অনুরাগীরা। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ ঝাড়গ্রাম শহরের সংবাদ ভবনে জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানটি হয়। আয়োজনে ছিলেন ঝাড়গ্রাম রিপোটার্স ক্লাব।

সাংবাদিক সংগঠনটির সম্পাদক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “ভাস্করবাবুর প্রস্তাবে আমরা সানন্দে সম্মত হয়েছি। ভাস্করবাবুই পুরো অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেছেন। ঝাড়গ্রামে প্রথমবার ভূমিপুত্র অংশুমান রায়ের জন্মদিন পালন করা হচ্ছ।”

ভাস্করবাবু জানালেন, অনুষ্ঠানে তিনি বাবার গান গেয়েছেন। স্মৃতিচারণ করেন অংশুমানের স্কুলের সহপাঠী বর্ষীয়ান বেহালা শিল্পী সুবোধ সেন। এছাড়াও অংশুমান অনুরাগী অনেকেই হাজির থাকবেন। ভাস্করের কথায়, “ঝাড়গ্রামের সঙ্গে বাবার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। এখানে বড় হয়েছেন। স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তাই বাবার জন্মস্থানে জন্মদিন পালনের উদ্যোগ করেছি।”
ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবায় জন্ম অংশুমানের। ছোটবেলা থেকেই লালমাটি, শালবন, মাদলের তালে তালে ঝুমুর টুসু, ভাদুর সঙ্গে অংশুমানের বড় হয়ে ওঠা। ষাটের দশকে পাকাপাকি ভাবে কলকাতায় থিতু হয়ে নব্বই দশক পর্যন্ত বাংলা গানের জগতে স্বমহিমায় বিরাজ করেছেন তিনি। ‘সাঁঝে ফোটে ঝিঙাফুল সকালে মলিন গো’, ‘দাদা পায়ে পড়ি রে’, ‘ভাদর আশ্বিন মাসে ভ্রমর বসে কাঁচা বাসে’, ‘আমার বেটার বিহা দিব’, ‘হায় হায় সাতপাকে বাধা পোইড়ো না’র মত অংশুমানের গাওয়া অজস্র কালজয়ী বাংলা গান এখনও সমান জনপ্রিয়।
সহপাঠী সুবোধ সেনের আক্ষেপ, “অংশুমানের শিল্পীসত্তার মূল্যায়ন হল না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয় গানগুলি প্রচলিত থাকলেও অংশুমানের নাম ও বাংলা সঙ্গীতে তাঁর অবদানের কথা বিস্মৃত হওয়ার পথে। এ বড়ই বেদনার।”

