পেরিয়ে গেল আরেকটা বিশ্ব শৌচালয় দিবস, পুরুলিয়ায় শৌচকর্ম করতে এখনও মাঠই ভরসা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ নভেম্বর: পেরিয়ে গেল আরেকটা বিশ্ব শৌচালয় দিবস। পুরুলিয়ায় শৌচকর্ম করতে এখনও সেই মাঠই ভরসা গ্রামবাসীর। সরকারি প্রকল্পে বাড়িতে, খামারে, পুকুর পাড়ে শৌচাগার ও শৌচালয় হয়েছে তবে সেটা ব্যবহার অযোগ্য। পরিকল্পনার অভাবে স্বল্প অর্থে শৌচালয় নির্মাণের পরিকল্পনা ঠান্ডা ঘরে বসেই যে হয়েছে তা পুরুলিয়া জেলায় নিদর্শন পাওয়া যাবে। এখানের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা না করেই প্রকল্পের ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচার চালিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে নামের শৌচালয়। সচেতনতার অভাবে গ্রামে আজও শৌচাগার ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। গ্রামের প্রায় বাড়িতেই পঞ্চায়েত থেকে নির্মিত হয়েছে শৌচাগার। কিন্তু সেই শৌচাগারে দেখা যাচ্ছে বাড়ির জ্বালানি কাঠ, কোথাও আবর্জনা রাখা হয়েছে। শৌচ কর্ম হয় না। আবার অনেকে শৌচাগার মানেই বোঝেন না। সেটা ঘুঁটে, জ্বালানি কাঠ রাখার জায়গা বলে জানেন। ঝালদায় এটা দেখা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ঝালদা ১ ব্লকের ওনা গ্রামের রণজিৎ সিং মুড়া ও ললিত সিং মুড়া জানান, পঞ্চায়েত থেকে যে শৌচাগার গুলি দিয়েছে সেগুলি ব্যবহারের অযোগ্য। তার পর জলের সমস্যা আছে। তাই অনেকেই শৌচাগার ব্যবহার করেননি।”

যদিও বিষয়টি নিয়ে এলাকার সমাজসেবী মোহন মাহাতো জানান, “সচেতনতার অভাবের কারণেই এই অবস্থা। কারণ, গ্রামের মানুষ যতদিন না বুঝবেন যে মাঠে ঘাটে শৌচকর্ম করলে কি হয় ততদিন পর্যন্ত এই ভাবেই চলবে। তাই এই বিষয়ে আরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।”

আজ বিশ্ব টয়লেট দিবসে সকলের কাছে তিনি আবেদন করে বলেন, নিজ নিজ বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করুন। দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলুন। চিত্রটা শুধু ঝালদা ব্লক বা গ্রামাঞ্চলে নয়, খোদ জেলা সদরেও একই। পুর এলাকায় আজও পুকুর, জলাশয়ের কাছে শৌচকর্ম করতে দেখা যায়। এমনকি জেলায় বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও ভরসা মাঠ ঘাট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *