সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫ নভেম্বর: ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম সোনার বিস্কুট-সহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল বিএসএফ। ধৃতদের নাম আজর মণ্ডল। বাগদার রাজকোল এলাকার বাসিন্দা। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানার রনঘাট এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়। ৬৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের আধিকারিক বলেন, “ধরা পড়া সোনার বিস্কুটের বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। তাঁর মোটরবাইকটি আটক করা হয়েছে।”
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রাতে ধৃত অজয় একটি বাইক চেপে ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তের দিক থেকে রনঘাট এলাকায় আসছিল। তার কোমরে কাপড়ে বাঁধা ছিল সোনার বিস্কুট। বাগদায় এক ব্যক্তির কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর। বাগদার রনঘাট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত ৬৮নং ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা খবর পেয়েছিলেন, বিপুল অঙ্কের সোনা পাচার করা হবে। স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ানো হয় নজরদারি। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ এক সন্দেহজনক বাইক আরোহীকে দেখতে পান জওয়ানরা। বাইক আরোহীর কাছে গিয়ে জওয়ানরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তল্লাশি করা হলে ওই যুবকের কোমরে বাঁধা কাপড়ের বেল্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৭টি সোনার বার। গ্রেফতার করা হয়েছে বাইক চালককে।

বিএসএফ আধিকারিক বলেন, ওই পাচারকারীকে নিরাপত্তা দিতে আরও একটা মোটর বাইকে একজন পিছু নিয়েছিল। বিএসএফের কাছে খবর ছিল আগে থেকেই। রাত ১১টা নাগাদ আজর যখন রনঘাটের রাস্তা দিয়ে বাগদা রোডের কাছে পৌঁছোয়, তখন বিএসএফের একটি দল দুষ্কৃতীর মোটর বাইকটি ঘিরে ফেলে। রিভলভার বের করতেই ধরা দিতে বাধ্য হয়। তল্লাশি চালাতেই তার কাছ থেকে সোনার বিস্কুটগুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিস্কুটগুলির মোট ওজন প্রায় ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম। বুধবার রাতে পেট্রাপোল সীমান্তে খালি ট্রাক থেকে উদ্ধার হয় ৬০টি সোনার বিস্কুট। যার বাজার মূল্য ছিল ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ৮৬ হাজার ২১৭ টাকা। গ্রেফতার করা হয় ট্রাক চালককে। কিন্তু তাতেও কেন সোনা পাচার কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে সীমান্তবর্তী এলাকার থানাগুলির ভূমিকা নিয়েও।

