অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৮ ডিসেম্বর: এ এক অন্য রকম সমাবেশ। এখনও এই সমবেতদের প্রায় প্রত্যেকের রক্তে দোলা দেয় চট্টগ্রাম। অনুভবের কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মাষ্টারদা, অথবা প্রীতিলতা-কল্পনা-অনন্ত সিংহরা।
রবিবার দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ‘শহীদ সূর্য সেন’ ভবনে যেন দূর দূর থেকে দেখা করলেন পরস্পরের স্বজনদের সঙ্গে। ওঁদের প্রায় সকলের কোনও না কোনও ভাবে নাড়ির টান চট্টগ্রামের সঙ্গে। আসলে এদিন ছিল বিপ্লবী গণেশ ঘোষ প্রতিষ্ঠিত ‘বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম স্মৃতি সংস্থা’-র ৫২তম বার্ষিক সম্মেলন।
সম্মেলন শুরুর আগে সদস্য / সদস্যাদের উপস্থিতিতে ভবন সংলগ্ন শহীদ তারকেশ্বর দস্তিদার উদ্যানে অধিষ্ঠিত বিপ্লবী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন, বিপ্লবী গণেশ ঘোষ ও বিপ্লবী অম্বিকা চক্রবর্তী-র আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান হয়।
এর পর একে একে ১) শোক প্রস্তাব (২) ৫০ ও ৫১ তম বার্ষিক সম্মেলনের কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, (৩) ৫২ তম বার্ষিক সম্মেলনের সম্পাদকীয় প্রতিবেদন অনুমোদন, (৪) ২০২১-২০২২ সালের আর্থিক বছরের পরীক্ষিত আয় ও ব্যয়ের হিসাব পেশ ও অনুমোদন, (৫) ২০২২-২৩ সালের জন্য অডিটর নিয়োগের প্রস্তাব পেশ ও অনুমোদন, (৬) ২০২২-২৩ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পেশ ও অনুমোদন, (৭) ২০২০-২৬ বর্ষের জন্যে অছি পরিষদে সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচন (৮) সভাপতির বক্তব্য পেশ ও সভার সমাপ্তি ঘোষণা।
দ্বিতীয় পর্বে সংস্থার অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধার ২জন কর্মকর্তা, অফিস সম্পাদক সুভাষ দাশগুপ্ত ও অছি পরিষদ সদস্য অনুপ দাশগুপ্ত ও আজীবন সদস্য আশিষ ঘোষের প্রয়াণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর প্রতি বছরের মত এবারেও দুপুরে ছিল সমবেতদের একসঙ্গে বসে ভাল-মন্দ আহার। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংস্থার দুই যুগ্ম সম্পাদক তপন বিকাশ দত্ত ও অজয় সেন ও অন্যান্যরা।
সংস্থার সভাপতি বর্ষীয়ান সমাজকর্মী লীলা পুরকায়স্থ ভবনের তিন তলায় আমাদের পরিকল্পিত গবেষণা কেন্দ্রের কর্মসূচি রূপায়ণের পরিকাঠামো নির্মাণে এবং শহীদ টেগরা প্রদর্শশালায় বিপ্লবী ও শহীদদের দুষ্প্রাপ্য ছবিগুলির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য সহৃদয় আর্থিক দান ও সাহায্যের আবেদন জানান। এই কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আপনাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করে তোলার হচ্ছে। অনুরোধ করেন শহীদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্যবহৃত বই, পোষাক, বস্তু, চিঠিপত্র ইত্যাদি কারো কাছে থাকলে ভবনে প্রস্তাবিত সংগ্রহশালার জন্য দিয়ে সাহায্য করতে।

