আমাদের ভারত, ৪ মার্চ: ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আরও এক ভারতীয় পড়ুয়ার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পড়ুয়াদের ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মাঝপথ থেকে চিকিৎসার জন্য ইউক্রেনের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ভিকে সিং। এই মুহূর্তে পোল্যান্ডে রয়েছেন জেনারেল ভিকে সিং। আহত ছাত্রের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার অসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং জানান, কিয়েভে এক ভারতীয় পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছেন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে কিয়েভের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিয়েভ থেকে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব এড়িয়ে আটকে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এর আগেই ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছিল যে প্রত্যেকেরই অবিলম্বে কিয়েভ ছাড়তে হবে। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে গুলি বারুদ কারোর ধর্ম বা নাগরিকত্ব দেখে না।
রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের চলতি সংঘর্ষে প্রেক্ষাপটে বহু ভারতীয় ইউক্রেন থেকে বেড়িয়ে আসতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তারা দেশে ফিরে এসেছেন। ভারতীয়দের উদ্ধারের কাজ তদারক করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চারজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। এখনো ইউক্রেনে অনেকেই আটকে রয়েছেন।
এর আগে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের মাঝে পড়ে অকালে ঝড়েছে ভারতের দুটি প্রাণ। খাবারের সন্ধানে বের হয়ে কর্নাটকের বাসিন্দার নবীনের মৃত্যু হয়। যুদ্ধ কবলিত খারকিভে খাবারের হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎই এক বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ভারতীয় ছাত্রীর দেহ। কর্নাটকের বাসিন্দা নবীন খারকিভ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের ভিনিতসিয়া শহরে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আরও এক ভারতীয় পড়ুয়া চন্দন জিন্দালের।

