সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ জানুয়ারি: এক দিনের ব্যবধানে ফের হাতির আক্রমণে মৃত্যু বড়জোড়ার গ্ৰামে। খবর পেয়ে বড়জোড়ার বিধায়ক ঘটনাস্হলে হাজির হলে ক্ষোভের মুখে পড়েন। গত ১৬ জানুয়ারি ভোরে এক বুনো দাঁতাল বড়জোড়ার গোপবান্দী গ্রামে শম্ভুনাথ মন্ডল নামে এক দুঃস্থ পরিবারের বৃদ্ধকে আছাড় মেরে পা দিয়ে থেঁতলে মারার পর গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাতে বড়জোড়া রেঞ্জের ঘুটগোড়িয়া হরিচরণডাঙার এক তরুণীকে আছাড় মারে আরেক জংলি হাতি। মৃতার নাম মামনি ঘোড়ুই(২৪)। একের পর এক এভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বন দফতরের উপর জনরোষ প্রবল হচ্ছে। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজও।
ঘটনার খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে গিয়ে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখার্জি, পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মন্ডল ও ব্লক সভাপতি কালীদাস মুখার্জিকে। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হাতির হানায় পরপর ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সারা বড়জোড়া জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বনসন্নিহিত এলাকার বাসিন্দারা। এই মুহূর্তে এই বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ৭০টি দলমার বুনো হাতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাগেছে। হাতিগুলি দলছুট হয়ে রোজ সন্ধ্যায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বাড়ি ঘর ভাঙ্গচুর করছে, মানুষের উপর আক্রমণ হানছে। বাসিন্দারা জীবন হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু হাতি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো নির্দেশ আসায় হাত গুটিয়ে রয়েছে বন বিভাগের কর্মীরা।
মৃতার দাদা গঙ্গাধর ঘোড়ুই বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি আমাদের সেরকম নেই কিন্তু বোনের ভালো বিয়ে দেব এই আশা ছিল। বন্দোবস্ত হচ্ছিল, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে বোনও কত স্বপ্ন দেখছিল। ওর জীবনটা শুরু হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, বাড়িতে শৌচালয় নেই বলে গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে বের হতেই উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা ৪টি দাঁতালের মধ্যে একটি মামনিকে শুঁড়ে করে তুলে আছাড় মেরে প্রায় ৩০ ফুট টেনে নিয়ে যায়। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা বেরিয়ে এলে হাতিগুলি চলে যায়। এরপর মামনিকে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাতিগুলি গ্রামের খেতমজুর পাড়াতেও হানা দেয়। পরেশ বাউরির মাটির ঘরে ধাক্কা মারে। তারা টালি খুলে বাচ্চাদের বের করে পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে বাঁচেন।
বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, মানুষ আমাদের উপর ভরসা করলেও আমরা মৃত্যু ঠেকাতে পারছি না। এটা আমাদের লজ্জা। হাতিগুলিকে অন্যত্র সরানোর জন্য চিফ কনজারভেটিভ অফ ফরেষ্ট এস কুনাল ডাইভাল- এর সাথে যোগাযোগ করেছি। উনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে হাতি সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে তোলা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সভাপতি পুর্ণেন্দু সরকার বলেন, বাঁকুড়ায় প্রতি বছর ২০- ২৫ জন মানুষ হাতির হানায় মারা যাচ্ছে। এরপরও সরকার হাত গুটিয়ে বসে আছে। এর চিরস্থায়ী সমাধান চাই। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।
বড়জোড়ার রেঞ্জ অফিসার ঋত্বিক দে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলেই আমরা হাতি তাড়ানোর উদ্যোগ নেব।

