বনগাঁয় ফের ডেঙ্গিতে মৃত্যু, মশা মারার কাজ নিয়ে প্রশ্ন প্রশাসনের বিরুদ্ধে

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫
সেপ্টেম্বর: বনগাঁয় ফের ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।, মশা মারার কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
ব্লকজুড়ে মশাবাহিত এই রোগের দাপট কমার লক্ষণ নেই। জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে, প্রশাসনের তরফে মশা মারার কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রবিবার রাতে রোগীকে পরিবারের পক্ষ থেকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ভর্তি করা হয়েছিল বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোর রাতে মৃত্যু হয় তার। মৃত গৃহবধূর নাম অপর্ণা দাস (৩১)। বাগদার বয়রা এলাকার বাসিন্দা সে। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল থেকে দেওয়া অপর্ণার মৃত্যুর শংসাপত্রে ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে। এই নিয়ে চলতি মরসুমে সরকারি ভাবে ডেঙ্গি আক্রান্ত চার জনের মৃত্যু হল এই ব্লকে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের প্রায় সর্বত্র ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়েছে। বেশি বাড়াবাড়ি অবস্থা বাগদা, আকাইপুর, গাঁড়াপোতা, ছয়ঘড়িয়া ও গোপালনগর পঞ্চায়েত এলাকায়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্লকে এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৪। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে টিউমার নিয়ে তার অস্ত্রোপচার হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর জ্বরে আক্রান্ত হন অপর্ণা। রবিবার রাতে তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, মঙ্গলবার ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়।

পঞ্চায়েতের অন্যান্য এলাকায় মশা মারার কাজ ভাল ভাবে হলেও মেয়ের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বাগদার বয়রাতে
সেভাবে মশা মারার কাজ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপর্ণার পরিবার। ভোটের আগে থেকে এই সব এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ কার্যত হয়নি বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিলই। তাঁদের দাবি, পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন হওয়ার পরেও ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ চলছে ধীর গতিতে। জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। একই পরিবারে এক সঙ্গে জ্বর-ডেঙ্গি আক্রান্ত রয়েছেন, এমন নজিরও রয়েছে। অনেকে আবার হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে স্থানীয় চিকিৎসককে দেখিয়ে বাড়িতেই থাকছেন। সচেতনতার অভাবে বহু মানুষ ডেঙ্গি পরীক্ষা করাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

বাগদা ব্লক এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। বাড়ির মধ্যে জমা জল, অসংখ্য ডোবা, ঝোপ-জঙ্গল, আগাছা, কচুবন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, কচু গাছের ডগায় জল জমে থাকে। তাতে ডেঙ্গি মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিয়মিত মশা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে না। চুন-ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর কাজও নিয়মিত হচ্ছে না। প্রশাসনের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মীরা রোজ এলাকায় সমীক্ষা করছেন। বাড়িতে কারও জ্বর হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রতি সাত দিন অন্তর বাড়িতে মশা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে। চুন, ব্লিচিং ছড়ানো, ঝোপ-জঙ্গল সাফাইয়ের কাজ চলছে।

বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই বলেন, “সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ১০০ জন ভর্তি আছেন। মাঝে জ্বর-ডেঙ্গিতে ভর্তি কমে এসেছিল। এখন প্রায় রোজই জ্বর-ডেঙ্গি নিয়ে মানুষ ভর্তি হচ্ছেন। অবশ্য রোজই রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “আকাইপুর পঞ্চায়েত-সহ গোটা বনগাঁ ব্লকে ঘরে ঘরে জ্বর-ডেঙ্গি ছড়াচ্ছে। ওই পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকজন মারাও গিয়েছেন। ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন সক্রিয় পদক্ষেপ করছে না।”

তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ডেঙ্গি নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ডেঙ্গি রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *