সন্ন্যাসী মাতা বামুনবুড়ি মায়ের বাৎসরিক পূজা ও মেলা পীড়াকাটার পাঁড়ুয়ামা গ্রামে

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জানুয়ারি: আজকের দিনটি মেদিনীপুর বিধানসভার পীড়াকাটা অঞ্চলের পাঁড়ুয়ামা গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগের ও শ্রদ্ধার। “সন্ন্যাসী মাতা বামুনবুড়ি” মায়ের বাৎসরিক পূজা ও মেলা। এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করলেন এলাকার স্থানীয় বিধায়ক মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী গৌতম বেরা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা সংলগ্ন কলসীভাঙ্গার পাড়ুয়ামা। প্রতি বছর ৩ রা মাঘ ভক্তদের পুজো পান বামুনবুড়ি সন্ন্যাসী মাতা। পুজো উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন মাঠে বসে বিশাল মেলা। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নয়৷ পাড়ুয়ামা, পাথরি, বুড়িপালা, কলসীভাঙ্গা সহ বিস্তৃর্ণ এলাকায় জাগ্রতা বলে পরিচিত দেবী সন্ন্যাসীমাতা বামুনবুড়ি। প্রায় ৮০ বছর আগে দেবীর পুজোর প্রচলন করে কলসীভাঙ্গা গ্রামের লক্ষীকান্ত মাহাতো। এখনও তাঁর বংশধরেরা সেই পুজোর ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন৷

কথিত আছে, বহু বছর আগে লক্ষীকান্ত মাহাতোর এক আত্মীয় গোরু চরাতে গিয়ে জঙ্গলে বলদ হারিয়ে ফেলেন। বহু খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে বনদেবীর নাম স্মরণ করেন লক্ষীকান্ত। তখনই এক বৃদ্ধা বলদের সন্ধান দেন এবং নিজেকে সন্ন্যাসী মাতা বামুনবুড়ি হিসেবে পরিচয় দেন। তারপর থেকে মাতার স্মরণে পুজোর প্রচলন হয়৷ বছরের পর বছর ধরে চলা এই পুজোয় মনস্কামনা পূরণে বলির পরিবর্তে মালসা ভোগের মানত করেন ভক্তরা। চিঁড়ে কলা আর বাতাসা দিয়ে সাজানো লক্ষ লক্ষ মালসা ভোগ মন্দিরের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়। বসে মেলা। মেলা উপলক্ষে কবিগান, বাউল গান, পালাকীর্তন, যাত্রাপালা সহ সারা রাত্রিব্যাপী নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়৷ লাখে লাখে ভক্ত নিজেদের মনস্কামনা পূরণের আশায় সমাগত হন সন্ন্যাসী মাতার থানে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *