শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ১৯ সেপ্টেম্বর:
দেখতে দেখতে একটা বছর পেরিয়েছে, সুকান্ত মজুমদার দায়িত্ব পেয়েছেন বঙ্গ বিজেপির। তাঁর হাত ধরেই ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে দলের মুষড়ে পড়া কর্মীরা। অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদার মাত্র একবছরেই হয়ে উঠেছেন দলীয় কর্মীদের “সুকান্ত দা।” তাই বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে বর্ষপূর্তিতে তাঁর অনুগামীরা তার মঙ্গল কামনায় ও তার রাজনৈতিক জীবনের সাফল্য কামনা করে পুজো যজ্ঞ ইত্যাদির আয়োজন করেছেন দিনভর রাজ্যের নানা প্রান্তে।
সুকান্ত মজুমদারের মঙ্গল কামনায় প্রথম পুজো শুরু হয় তার সংসদীয় এলাকা বালুরঘাটে। এরপর ব্যারাকপুর ও বারাসাতে সুকান্ত মজুমদারের সাফল্য কামনা করে হয়েছে যজ্ঞ। আমডাঙায় পুজো দিয়েছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা। টাকিতে, মছলন্দপুরের কালীবাড়িতে, কচুয়ার লোকনাথ মন্দিরে তাঁর মঙ্গল কামনায় পুজো দেওয়া হয়েছে।

ছবি:বারাসতে মঙ্গল কামনায় পুজো।
কলকাতায় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি এবং কালীঘাটে মা কালীর কাছেও সুকান্তর অনুগামীরা প্রার্থনা করেছেন আজকের দিনে। এরপর কালীঘাটের পুজোর প্রসাদ খাওয়ানো হয় বঙ্গ বিজেপি সভাপতিকে।
উত্তর বঙ্গের মালদা, শিলিগুড়ি, বালুরঘাট থেকে শুরু করে দক্ষিণের দীঘা, শ্রীরামপুর, বজবজ, দেগঙ্গা, হাবড়া সহ বহু জায়গায় সুকান্ত অনুগামীরা পুজোর আয়োজন করেন আজ। তাদের কথায় সুকান্ত মজুমদারের মতো তরুণ তুর্কি নেতাকে পেয়ে তারা টগবগিয়ে ছুটে চলার সাহস পেয়েছেন। দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ৭৩ জন বিজেপি এম এল এ পেয়েছে বঙ্গ বিজেপি, এই সাফল্য বিরাট সাফল্য। তবে এবার সুকান্তর নেতৃত্বে বাংলার মসনদ দখলের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে তারা আশাবাদী।

ছবি: কচুয়ায় লোকনাথ মন্দিরে।
২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি হিসেবে ডক্টর সুকান্ত মজুমদারের নাম ঘোষিত হয়। বলা যায় ড্যামেজ কন্ট্রোলের গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যে বিজেপির তখন অস্তিত্ব চরম সংকটের মধ্যে ছিল। সেই সময় সংঘের আদর্শের বলীয়ান রাষ্ট্রবাদী মানসিকতা সম্পন্ন সুকান্ত মজুমদারের হাতে বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। মাত্র দু’বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল সেই সময় তার। ভোটের ময়দানে হেরে যাওয়া কর্মীদের ভাঙাচোরা মনোবলকে কিভাবে আবার উৎসাহিত করে লড়াইয়ের ময়দানে ফেরাতে হয় তার সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার এক বছর আগে। যদিও একাধিক রাজনীতিবিদ তাঁকে বালখিল্য বলে ব্যঙ্গ করতে ভোলেননি। আদ্যপ্রান্ত একটা শিক্ষিত, আপাত নিরীহ অধ্যাপক রাজনীতির ময়দানে কতটা জ্বলে উঠবে তা নিয়ে সংশয় ছিল অনেকেরই মনেই। দ্বিধা বিভক্ত হয়েছিলেন অনেকে তার ক্ষমতা প্রসঙ্গে।

ছবি: খড়দহে দুর্গামন্দিরে।
কিন্তু আজ এই কথা অস্বীকার করার উপায় নেই চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছে এই নিপাট বাঙালি অধ্যাপকের–একজন বলিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে। শিক্ষিত বাঙালির কাছে তিনি আজ সমাদৃত। নবান্ন অভিযানের পর তার রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কে সন্ধিহানদের সন্দেহ দূর হতে সময় নেয়নি।

ছবি: টাকি মন্দিরে।
আজ আবার সেই ১৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে প্রথম বর্ষপূর্তিতে রাজনৈতিক শিক্ষানবিশ থেকে আজ তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের শিক্ষক। তলানিতে পৌঁছে যাওয়া কর্মীদের মনোবল তাঁর বিশ্বস্ত হাত ধরে আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। আর তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযানে। অর্থাৎ বর্ষ পূর্তির আগেই ফাইনাল পরীক্ষায় বলা যায় স্টারমার্ক নিয়েই পাস করেছেন তিনি। ব্যারিকেড ভেঙ্গে প্রমাণ করেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর নেতৃত্ব যথেষ্ট দৃঢ় এবং বলিষ্ঠ। সংযত মার্জিত রুচিশীল তাঁর ব্যবহারে মন কেড়েছে বুদ্ধিজীবী মহলেরও। পড়াশুনার জগতের মত রাজনীতির একনিষ্ঠ ছাত্র হয়ে উঠেছেন সুকান্ত। রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর কর্তব্য, দায়বদ্ধতা উদাহরণ হিসেবে ধীরে ধীরে উঠে আসছে। একইসঙ্গে খুব সহজে মানুষের সাথে মিশে যাওয়া, মানুষের মরমে মর্মাহত হওয়া তাকে ধীরে ধীরে জননেতার পথে উত্তরণ ঘটাচ্ছে।

