আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ২৯ জুন: গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশের পরই প্রথম ১০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। ৪৫ টি আসনের মধ্যে ৩৬ টি আসনে দলীয়ভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও বাকি ৯ টি আসনে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থন করেন অনিতের দল। এখানেই মাষ্টার স্ট্রাইক দেন সে। কার্শিয়াং থেকে অনিত নিজেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তবে অনীতের প্রচারের স্টাইল ছিল আলাদা। জাকজমক নয়, একেবারে পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে পকেট রুটে গিয়ে প্রচার সারেন অনিত। শুধুমাত্র দার্জিলিং বা কার্শিয়াং নয়, কালিম্পং থেকে মিরিক কোথাও বাদ যায়নি অনিত থাপা। যদিও বা হামরো পার্টির জোর প্রচার ছিল শুধুমাত্র দার্জিলিং কেন্দ্রিক।
গণনার দিন সকাল থেকেই আসন সংখ্যায় এগিয়ে থাকে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। সর্বসাকুল্যে ৪৫ টি আসনের মধ্যে ২৭ টি আসনে জয় লাভ করে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। হামরো পার্টির ৮ টি আসন, তৃণমূল কংগ্রেসের ৫ টি ও নির্দলের ৫ টি।
ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার ঝুলিতে দার্জিলিংয়ের ৮ টি সিট, কার্শিয়াংয়ের ১১ টি সিট ও কালিম্পংয়ের ৮ টি সিট। অন্যদিকে হামরো পার্টি শুধুমাত্র দার্জিলিংকে কেন্দ্র করেই ৮ টি সিটে জয়লাভ করে৷ তৃণমূল ৫ টি ও নির্দল ৫ টি।
জয়ের পর খুশির হাওয়া পাহাড়ে৷ দলীয় অফিসে উড়ছে পতাকা। জয়গান অনীতের। জয়ের পর অনীত জানান , “পাহাড়ে এবার থেকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে রাজনীতি হবে। আবেগের রাজনীতি আর নয়, এই ভাবনায় কাজ করছিলাম। বিভিন্ন নির্বাচন এসেছে আমাদের দল এগিয়েছে, কখনো আমরা থেমে যাইনি। অনেক চ্যালেঞ্জের জয় হলেও যখন আমাদের বোর্ডের কাজে মানুষ যখন খুশি হবে তখনই আমাদের প্রধান জয় হবে। জন সাধারণের দেওয়া ভোটকে সম্মান দিতে হবে। প্রথমত পাহাড়ের ব্যাবস্থা ঠিক করতে হবে৷ পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখতে হবে৷”
অন্যদিকে হামরো পার্টির প্রধান অজয় এডওয়ার্ড জানান, “অবশ্যই দুঃখ হচ্ছে আমরা জয়লাভ করতে পারিনি। শুধুমাত্র দার্জিলিং সদর বা মিউনিসিপালিটি এলাকা গুলোর ভোট পেয়েছি। তারপরও আমরা দ্বিতীয় স্থানে আছি। মাত্র ছয় মাসের ব্যাবধানে দ্বিতীয় স্থানে আসাটাও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনিত থাপা ও তার দলকে অনেক শুভেচ্ছা। তবে জনতার রাজ পাহাড়ে চলে এসেছে। আমরা বিরোধী আসনে রয়েছে, দেখা যাক কতজন নির্দল প্রার্থী আমাদের সাথ জোগায়। বিগত দিনে জিটিএ’তে যে দুর্নীতি গুলো হয়েছে সেগুলো আর হতে দেব না।”

