মেদিনীপুর থেকে হাতির পাল বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় বনাঞ্চলে, দাঁতালের হানায় দু’জনের প্রাণ যাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ জানুয়ারি: গত দুদিন আগেই ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর সীমানা অতিক্রম করে বাঁকুড়ায় ঢুকেছে ৮২ টি হাতির একটি দল। মঙ্গলবার রাতেই বুনো হাতির পালটি বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর বিটে পা রাখতে না রাখতেই প্রাণ কেড়ে নিল ২ জনের। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বড়জোড়া- বেলিয়াতোড় রেঞ্জের জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার সকাল থেকেই বাসিন্দারা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, হাতিগুলি যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরৎ পাঠানোর দাবিতে বড়জোড়া বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। হাতির হানায় দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা।

মৃত দুই ব্যক্তি হলেন, সংগ্রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল বাউরি( ৪৩) ও ঝরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তুলসি বটব্যাল (৬৫)। মঙ্গল পেশায় রাজমিস্ত্রি। মঙ্গলবার কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ কেনার জন্য প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে বেরিয়েছিলেন বাঁধকানা মোড়ের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার পথেই হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় তাঁর।
অন্যদিকে রাত ১২ টা নাগাদ ঝরিয়া গ্রামে ঢুকে হামলা চালায় হাতির পাল। মাঝ রাতে বাড়ির দেওয়াল ভেঙ্গে একটি দাঁতাল তুলসি বটব্যাল নামে এক মহিলাকে শুঁড় দিয়ে টেনে বের করে এনে উঠোনের মাঝে তাকে আছাড় মেরে পা দিয়ে থেঁতলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারান তুলসীদেবী। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর হাতি সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি ও সভাপতি পূর্ণেন্দু সরকার বন দফতরের কাছে দাবি করেন, ১৫ দিনের মধ্যে মৃতের পরিবারের ২ জনকে চাকরির পাশাপাশি দশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়াও হাতিগুলিকে অবিলম্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনর হুমকি দেন তিনি।

এদিনই হাতি তাড়ানোর দাবিতে সারা ভারত কৃষক সভার পক্ষ থেকে বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখা হয়। বিডিও সুরজিৎ পণ্ডিত বন দফতরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ ওঠে।

এদিকে রেঞ্জ অফিসার ঋত্বিক দে বলেন, হাতি গুলির গতিবিধির উপর নজরদারি রাখা হয়েছে। সব জায়গায় হুলা পার্টি মোতায়েন করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের হাতে নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। লোক বন দপ্তরের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বনদপ্তর থেকে একবারও তাদের খবর নেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *