সেন্টারের বদলে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী, মানকরে খাদ্যসামগ্রী পাচারের অভিযোগে ঘেরাও অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষিকার বাড়ি

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৩ অক্টোবর: অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের বদলে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী মজুত। সুযোগ বুঝে ওইসব সামগ্রী পাচার করার অভিযোগে শিক্ষিকার বাড়ি ঘেরাও করল অবিভাবকরা। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদের মানকর কলোনী এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। 

ঘটনায় জানা গেছে, মানকর কলোনীতে রয়েছে ৬৮ নং অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার। গত কয়েকমাস ধরে ওই সেন্টারের খাবারের মান ও রান্নার অপরিস্কার বাসনপত্র নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। এবার সরাসরি প্রসূতি ও শিশুদের খাদ্যসামগ্রী পাচারের অভিযোগে সরব হল অবিভাবকরা। বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষিকার বাড়ি ঘেরাও করে অবিভাবকরা। এবং তার বাড়িতে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের খাদ্যসামগ্রী মজুত অবস্থায় উদ্ধার হয়। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওই সেন্টারের খাদ্যসামগ্রী সংশ্লিষ্ট গাড়িতে আসে। কিন্তু শিক্ষিকা সেন্টারের বদলে নিজের বাড়িতে চাল, তেল সহ খাদ্য সামগ্রী নামান। গোটা বিষয়টি নজরদারিতে রাখে এলাকাবাসী। দুদিনের মধ্যেও ওই খাদ্য সামগ্রী সেন্টারে না পৌঁছানোয় সন্দেহ হয় অবিভাবকদের। আর ওই সন্দেহে এদিন চড়াও হয় দিদিমণির বাড়িতে।

বিক্ষোভরত অবিভাবকরা জানান, “দিদিমণির কাছে খাদ্যসামগ্রী এসেছে কি না জানতে চাওয়া হলে, প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তার বাড়িতে ঢুকতেই বস্তা বস্তা চাল, বেশ কিছু তেলের বোতল, আরও অন্যান্য সামগ্রী মজুত দেখা যায়। সেসব উদ্ধার হতেই বেসুরো গাইতে শুরু করে দিদিমণি।”

অবিভাবকদের অভিযোগ, বাড়িতে শিশু ও প্রসূতিদের খাদ্য সামগ্রী মজুত রেখে সুকৌশলে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। সরকার ভালো মানের খাদ্য সামগ্রী পাঠানো স্বত্ত্বেও সেন্টারে দীর্ঘদিনের মজুত করা নিম্নমানের খাবার দেওয় হয়। বিষয়টি অতীতে ব্লকে সিডিপিও’কে জানানো হয়েছে। এবং আবারও এদিনের ঘটনা জানানো হয়েছে। আমরা ওই ধরনের শিক্ষিকাকে এই সেন্টার থেকে সরানো ও আইনগত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

ওই এলাকার বাসিন্দা তথা মানকর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কল্যাণী পাত্র জানান, “অবিভাবকদের অভিযোগ এবং এদিন সরাসরি তার বাড়ি থেকে সদ্য আসা খাদ্য সামগ্রী পাওয়া গেছে। সেন্টারের বদলে বাড়িতে কেন ওই খাদ্য সামগ্রী রাখা হল। গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হোক।”

যদিও এবিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি ওই অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের অভিযুক্ত শিক্ষিকা সোমা মল্লিক। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বুদবুদ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

গলসী -১ ব্লকের সিডিপিও মহম্মদ ইমরান জানান,
“বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *