Anas Ahmed, Rampurhat, শাসক দলের “তোলাবাজি” বন্ধ করতে পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে হুমায়ুনের দলে লড়ছেন আনাস আহমেদ

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৬ এপ্রিল: শাসক দলের মুখোশ খুলতে এবার জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যবসায়ী আনাস আহমেদ। ইতিমধ্যে তিনি মনোনয়ন জমা দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। তাঁর লক্ষ্য দলের একনায়কতন্ত্রের অবসান।

আনাস আহমেদের বাড়ি বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভার দেউচা গ্রামে। পেশায় আপাদ মস্তক ব্যবসায়ী। রাজনীতির ধারে কাছে ছিলেন না কোনদিন। বীরভূম লরি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক পদে রয়েছেন। লরি ব্যবসায়ীদের আপদ বিপদে সব সময় পাশে থেকেছেন। গত বছর অক্টোবর মাসে মহম্মদবাজার থানার পুলিশের ঘুষ নেওয়ার ছবি ভাইরাল করে তিনি পুলিশের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দুই পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এরপরেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় তাকে জর্জরিত করে। একটি মামলায় ডিসেম্বর মাসে তাকে রামপুরহাট থানা গ্রেফতার করে। ২৬ দিন পুলিশ হেফাজত এবং ৩০ দিন জেল হেফাজতে রেখে তাঁকে মানসিক অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই শাসক দলের অত্যাচার, নিপীড়নের জবাব দিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছেন আনাস আহমেদ। দাঁড়িয়েছেন জনতা উন্নয়ন পার্টি থেকে।

আনাস বলেন, “শাসক দল আর প্রশাসন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের আমলে মানুষ বাক স্বাধীনতা হারিয়েছে। শাসক দলের কথায় পুলিশ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করছে। তোলাবাজির দাপটে পাথরের দাম চড় চড় করে বেড়েছে। কিন্তু তাতে ব্যবসায়ীদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে সেটা শাসক দল এবং প্রশাসনের। তাছাড়া রামপুরহাট বিধানসভার মহম্মদবাজার ব্লকের ছয়টি অঞ্চল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।

আনাস বলেন, “মহম্মদবাজার ব্লকের গনপুর, ভাঁড়কাটা, কাপিষ্ঠা, হিংলো, রামপুর এবং সেকেড্ডা অঞ্চল বার বার তৃণমূলের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে জয়ী করেছেন। কিন্তু এই এলাকা আজও বঞ্চিত থেকে গিয়েছে। শুধু ভোটের সময় উনাকে এলাকায় দেখা যায়। তাই আমি মহম্মদবাজার ব্লকের মানুষের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছি। দীঘল গ্রামে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেটি এখন জরাজীর্ণ। দ্বারকা নদীর উপর একটি সেতু আজও নির্মাণ করা গেল না। এসব নিয়েই আমি প্রচারে নেমেছি।”

আনাস ময়দানে নামায় বিজেপি কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মহম্মদবাজার ব্লক থেকে প্রথম কেউ প্রার্থী হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে তৃণমূল। কারণ ওই এলাকা থেকেই গত নির্বাচনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে জয় এনে দিয়েছিল।

যদিও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কালি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে সাড়ে ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলাম এই এলাকা থেকে। এবার জয়ের ব্যবধান বাড়বে। এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কে ভোটে দাঁড়ালো তা আমাদের বিষয় নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *