আমাদের ভারত, ১০ মে: মঙ্গলবার সাহিত্য আকাডেমির কলকাতার বাংলা উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বিশিষ্ট কবি অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস।
তাঁর অভিযোগ, “কলকাতার বাংলা সাহিত্য আকাডেমিতে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। বিভিন্ন বিষয়ে স্বজন পোষণ চলছে। এমনকি, সোমবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১ তম জন্ম-জয়ন্তীতে বাংলা কবিতাকে ‘অপমান’ করা হয়েছে।“ একইসঙ্গে তিনি ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ও নাট্যকার ব্রাত্য বসুকে যে ‘সাহিত্য আকাডেমি’ দেওয়া হয়েছে, তার নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, ‘৩০ ডিসেম্বর ২০২১ সালে সাহিত্য আকাডেমির জন্য এমন একটি বইকে নির্বাচন করা হয়েছে, আমি মনে করি যার নির্বাচন প্রক্রিয়ার পদ্ধতিটাই ধোঁয়াশা যুক্ত।’

কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, ‘আরটিআই করে আমি জানতে চেয়েছিলাম, পরামর্শদান পর্ষদের বর্তমান ৯ জন সদস্যরা কাদের নাম প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু, হাতে আসা তথ্যে দেখলাম, তালিকায় ২০২০ এবং ২০২১-তে যে ৬৫ টি বইয়ের নাম আছে, তাতে ‘মীরজাফর ও অন্যান্য নাটক’ বইয়ের নাম নেই। তারপরেও অন্য উপায়ে এই বইটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরে ১১ মার্চ, দিল্লিতে সাহিত্য আকাডেমির জেনারেল কাউন্সিলে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, কেউই কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।’
এরপরেই তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘গতকাল (রবীন্দ্র জয়ন্তীতে) কলকাতায় যে জিনিসটা হয়েছে, তা চূড়ান্ত বালখিল্যতা। যদিও এটি বাংলা আকাডেমির ব্যাপার। তবে বাংলা আকাডেমির যাঁরাই এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচক কমিটিতে আছেন, তাঁদেরই কয়েকজন সাহিত্য আকাডেমির বাংলা বোর্ডেও আছেন।’ শেষে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতে একটি কথা আছে, যার বাংলা হল – দুর্জনকে সবসময় পরিহার করা উচিত।’
প্রসঙ্গত, বাংলা আকাদেমির সভাপতিকে চিঠি লিখে এরকম কথাই জানিয়েছেন বর্ধমানের রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয় চিঠির পরতে পরতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে এই সম্মান দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাডেমি শুধুমাত্র একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তাই নয়, এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকারের নিরলস চর্চায় রত সমস্ত মানুষকে অপমানিত করেছে।’

